আট বছর বয়সী সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে এক বাবা! সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার শহীদগঞ্জ মহল্লায় বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। সংসার ফেলে চলে যাওয়া স্ত্রীর ওপর অভিমান করে সেলিম আহম্মেদ (৩৫) তার শিশু কন্যা সোহাকে (৮) হত্যার পর আত্মহত্যা করে বলে এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। দুটি লাশই সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত সেলিম আহম্মেদ সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের শহীদগঞ্জ মহল্লার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
সদর থানার উপ-পরিদর্শক নুরুল ইসলাম এলাকাবাসির বরাত দিয়ে জানান, সেলিমের স্ত্রী রুমি বেগম প্রায় দুই বছর আগে পরকীয়া প্রেমের কারণে সন্তান ফেলে চলে যান। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর শিশুটি তার দাদি সেতারা বেগমের কাছে থাকতো। তবে শিশুটি প্রায়ই তার মায়ের কাছে চলে যেতে চাইলে সেলিম তাকে মারধোর করতো। এ কারণে দাদি সেতারা বেগমও শিশুটিকে তার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলতেন সেলিমকে। এসব নিয়ে সেলিম তার মা ও মেয়ের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতেন।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক অশান্তির জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে মা সেতারা বেগম ও মেয়ে সোহাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় সেলিম। সে দুই জনকেই বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। সেতারা বেগম টের পেয়ে চিৎকার করে অন্য ঘরে পালিয়ে গিয়ে নিজে রক্ষা করেন। তবে এরই মধ্যে সেলিম তার মেয়েকে একই কায়দায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর সে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। সকালে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সেলিম আহম্মেদের মা সেতারা বেগম ও ছোট ভাই মাহমুদুল আলম সম্রাট জানান, স্ত্রীর চলে যাওয়ার ঘটনায় সেলিম বড় ধরণের মানসিক আঘাত পায়। গত দুদিন ধরে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার কথা কটাকাটি চলছিল। এরই জের ধরে ক্ষোভে ও দুঃখে সে এধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করবে বলেও জানান সদর থানার উপ-পরিদর্শক নুরুল ইসলাম।
আরও পড়ুন-
সার্কের ভবিষ্যৎ কী?
যেভাবে চিনবেন ভুয়া পুলিশ
/এফএস/








