‘কাফন পরতে, কফিনে শুতে আসিনি’

রাবি প্রতিনিধি
২২ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:৪২আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৬, ১৬:০৯





রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আব্দুলাহীল বাকী বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিপুর মৃত্যুর পর কাফনের কাপড় ও একটি কফিন দিয়েছে। মনে হচ্ছে তারা কাফন, কফিন আগে থেকেই প্রস্তুত করে রেখেছিল। আমরা কাফন পরতে, কফিনে শুতে আসিনি। আমরা হত্যাকাণ্ড বন্ধের প্রস্তুতি দেখতে এসেছি।’ ‘কাফন পরতে, কফিনে শুতে আসিনি’
শনিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মানববন্ধনে ঝিনাইদহ জেলা সমিতি ও কুষ্টিয়া জেলা সমিতি যোগ দেয়।
আব্দুলাহীল বাকী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের সীমানায় নিরাপদ নয়। হলের মতো নিরাপদ জায়গায় শিক্ষার্থীরা খুন হচ্ছে। আমার জানা মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত যতগুলো হত্যা হয়েছে তার একটিরও বিচার হয়নি। হত্যাকারীরা এ ক্যাম্পাসকে খুন করার উপযুক্ত জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে।’
মানববন্ধনে বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, ‘আমাদের বারবার এখানে দাঁড়াতে হয়। একবার শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের জন্য, আবার শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের জন্য। আমাদের এক শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, যদি প্রশাসন সচেষ্ট হয় তাহলে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বের করতে পারে। আমি এই বিভাগের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত চাই। বিচার দেখতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছেও আমার দাবি, যদি এই ঘটনাগুলো ঘটতেই থাকে তাহলে কেউ নিরাপদ নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার চত্বরকে আর রক্তপুরী দেখতে চাই না। আমরা চাই না, এভাবে আবারও মানববন্ধনে দাঁড়াতে।’
হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি করে বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আতিক সাদ্দাম বলেন, ‘প্রশাসন এখন শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের লাশ উপহার দিচ্ছে। বাবা-মা আমাদের পড়ালেখার জন্য পাঠায় লাশ হয়ে ফেরার জন্য নয়।’
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সজীব বলেন, ‘আমার ভাইয়ের লাশ তার মায়ের কোলে তুলে দিয়ে এসেছি। আর কত মায়ের স্বপ্নভঙ্গ করে তার মায়ের কোলে তুলে দিতে হবে?’
বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদ রিন্টু বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা আবাসিক হল। আর সেখানে শিক্ষার্থীরা খুন হচ্ছে। আমি লিপুর মায়ের কাছে কোনও উত্তর দিতে পারিনি। তার মা আমাকে বলেছিল, ‘তোমরা এর বিচার করো বাবা, বিচার করো।’ আমরা বিচার চাই, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা আর কোনও মায়ের বুক খালি হতে দেব না।”
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সামনে লিপু হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঝিনাইদহ জেলা সমিতি।
প্রসঙ্গত, গত ২০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নবাব আব্দুল লতিফ হলের ডাইনিংয়ের ড্রেন থেকে লিপুর লাশ উদ্ধার করা হয়। আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে পুলিশ হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করে। ওইদিন লিপুর চাচা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
/এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
পাবনায় কিশোরীকে হত্যা: কথিত প্রেমিকসহ ৩ জন গ্রেফতার
পাবনায় কিশোরীকে হত্যা: কথিত প্রেমিকসহ ৩ জন গ্রেফতার
গৌরীই কি তবে আমির খানের জীবনের বনলতা সেন?
গৌরীই কি তবে আমির খানের জীবনের বনলতা সেন?
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম