বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় স্বেচ্ছাশ্রমে ১৭২ ফুট দৈর্ঘ্য বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিকের তত্ত্বাবধানে পৌর এলাকার ভুরঘাটা-চাউলাপাড়া এলাকায় গাংনই নদীর ওপর সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণের ফলে ৮ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে।
জানা গেছে, শিবগঞ্জে ভুরঘাটা ও চাউলাপাড়া গ্রাম দুটিকে ভাগ করে রেখেছে গাংনই নদী। সেতু না থাকায় নদীর ওপারের চাউলিয়াপাড়া, পূর্ব জাহাঙ্গীরাবাদ, পানাতিয়াপাড়া ও চাঁদনিয়া শিবগঞ্জসহ চার গ্রামের মানুষদের উপজেলা সদরে আসতে তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হত। জনদুর্ভোগের এই চিত্র দেখার পর পৌর মেয়র বাঁশের সাঁকো নির্মানের উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। মেয়রের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন উপজেলা ছাত্রলীগ, আশার আলো যুব সমবায় সমিতি, চাউলাপাড়া আনসার-ভিডিপি ক্লাব ও পাওয়ার বয়েজ স্পোটিং ক্লাবের নেতা-কর্মী ও সদস্যরা। ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় সাঁকাঁ নির্মানের কাজ। সাঁকো নির্মাণে এলাকাবাসীদের মধ্যে মধ্যে কেউ বাঁশ, কেউ দড়ি, লোহা, কাঠ আবার কেউ শ্রম দিয়েছেন। এভাবেই পাঁচদিন অক্লান্ত স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ হয়েছে এই বাঁশের সাঁকো। গত শনিবার সাঁকোটি মেয়র উদ্ধোধন করেন।
পৌর কাউন্সিলর ভুরঘাটা মহল্লার বাসিন্দা আবু সাঈদ জানান, এ সাঁকোটি নির্মাণে তিন শতাধিক বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। যার সবই জনগণ স্বেচ্ছায় দান করেছেন।
চাইলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলী জানান, সাঁকোটি নির্মাণের ফলে গাংনই নদীর দুপাড়ের লালদহ, কালিপাড়া, ভুরঘাটা, নাটমরিচাই, চাউলিয়াপাড়া, পূর্ব জাহাঙ্গীরাবাদ, পানাতিয়াপাড়া ও চাঁদনিয়া শিবগঞ্জের প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিজ্জাকুল ইসলাম রাজু জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের প্রত্যোক নেতা-কর্মী সাঁকোটি নির্মাণে সহযোগিতা করেছে। ভালো কাজে শরিক হতে পেরে ছাত্রলীগ গর্বিত।
শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক জানান, গাংনই নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের মতো আর্থিক সক্ষমতা পৌরসভার নেই। জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। সাঁকো নির্মাণের ফলে এখন আট গ্রামের ১০ হাজার মানুষ অতি কম সময়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবেন। সেই সঙ্গে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন।
/এমডিপি/







