ডিবি পুলিশের সোর্স সন্দেহে শিহাব উদ্দিন নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার এক দারোগাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শিহাবের বাবা সাইফুল ইসলাম রবিবার(১২ মার্চ) বিকালে তৃতীয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা (নং-২৭সি/২০১৭ সারিয়া) করেন। আদালত শুনানি শেষে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন- সারিয়াকান্দির আন্দরবাড়ির মৃত তহসিন আকন্দের ছেলে শাহাদুল হোসেন কালে, মণ্ডলবাড়ি গ্রামের লেবু মণ্ডলের ছেলে আপেল, আন্দরবাড়ির মৃত হালিমের ছেলে মোত্তালেব ও সারিয়াকান্দি থানার এসআই নয়ন কুমার।
অভিযোগে জানা গেছে, মাসোহারার বিনিময়ে আপেল ও মোত্তালেবকে মাদক ব্যবসায় উৎসাহিত করেন এসআই নয়ন। পুলিশের চাপ না থাকায় আসামিরা অবাধে বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করে আসছে। বগুড়া ডিবি পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে কয়েকবার অভিযান চালায়। এ অভিযানে শিহাব ডিবি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছে বলে সন্দেহে করেন এসআই নয়ন, আপেল ও মোত্তালেব। এর জেরে আপেল ও মোত্তালেব গত ৪ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে সোসাইবাড়ি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে শিহাব উদ্দিনকে কৌশলে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ডেকে নেয়। পরে তারা ফোনে বিষয়টি এসআই নয়নকে জানায়। তখন তিনি (নয়ন) শিহাবকে খুন করার নির্দেশ দেন। এরপর আসামিরা শিহাবকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। পরে শিহাবকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত শিহাব অভিযোগ করেন, এসআই নয়নের নির্দেশে ও তার উপস্থিতিতে অন্য আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে।
এদিকে এসআই নয়ন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিহাবকে আহত অবস্থায় দেখতে পাই। মাসোহারার বিনিময়ে কাউকে মাদক ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে এ মামলা ষড়যন্ত্রমূলক।
বাদীপক্ষের অ্যাডভোকেট ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, এসআই নয়নের নির্দেশেই আসামিরা শিহাবকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। এ ব্যাপারে শিহাবের বাবা রবিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হানের আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। শুনানি শেষে আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
/এআর/








