বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শিশুর পরিবার থেকে কেউ মামলা করবে না বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি।
এ ব্যাপারে শিশুর বাবা রুবেল উদ্দিন বলেন, ‘হয়রানির আশঙ্কায় এবং মুরুব্বিদের পরামর্শে এ নিয়ে কোনও মামলা করবো না।’
সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন বলেছেন, আগে জিডি করা আছে। শিশুর স্বজনরা এগিয়ে না এলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। এরপর আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগ থেকে রুবেল উদ্দিন এবং হোসনে আরা দম্পত্তির তিনদিন বয়সী নবজাতক চুরি হয়। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর পুলিশ রবিবার বিকাল ৩টার দিকে গাবতলী উপজেলার মাজবাড়ী গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে। এর সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) দাবি করেন, শহরতলির বারোপুরের মাহফুজার রহমানের স্ত্রী রত্না শিশু চোর চক্রের সদস্য। সে শিশু চুরি করে অর্থের বিনিময়ে নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে। রত্না ওই হাসপাতালে রোগির স্বজন সেজে ঢুকে এবং সুযোগ বুঝে ওই নবজাতককে চুরি করে। পরে বগুড়ার গাবতলীর মাজবাড়ী গ্রামের নিঃসন্তান ফুলমিয়া ও লাবনী দম্পতির হাতে তুলে দেয়। তাদের ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে কোনও সন্তান হয়নি। শিশুকে উদ্ধারে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া বাজার সংলগ্ন বিলচতল গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে বকুল আহম্মেদ সহায়তা করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া বাজারে গিয়ে বকুলের কসমেটিক্স দোকান ও পাশেই বিলচতল গ্রামের বাড়িতে তালা দেখা যায়।
বকুলের ভাবি মর্জিনা জানান, গত শনিবার জোহরের নামাজের সময় বকুলের স্ত্রী তাজমিনার চাচা ফুলমিয়া ও চাচি লাবনী একটা ফুটফুটে বাচ্চা নিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে ৩০-৩৫ বছরের একটি শ্যামলা মেয়ে এসেছিল। সুন্দর বাচ্চা দেখে আশপাশের সবাই বাড়িতে ভিড় করেন। লাবনী সবাইকে বলছিল তারা বাচ্চা দত্তক নিয়েছেন। এসময় তারা বকুলের বাড়িতে ৪-৫ দিন থাকার কথা বলেন। এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টেলিভিশনের খবরে শিশুটির বাবা-মার আহাজারি প্রচার হলে প্রতিবেশী এক নারী সেটা দেখেন। তিনি বকুলের বাড়িতে গিয়ে লাবনীকে প্রশ্ন করেন এ বাচ্চা হাসপাতাল থেকে চুরি করা কিনা। তখন লাবনী, তার স্বামী ফুলমিয়া এবং ওই নারী (সম্ভবত রত্না) বিপাকে পড়ে যান। তারা দ্রুত বাচ্চা নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় করে বকুলের বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
বকুলের ভাবি মর্জিনা আরও জানান, সম্ভবত শিশুকে চুরির পর রত্না প্রথমে লাবনী দম্পতির কাছে যায়। এরপর তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জামাই বকুলের বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগেই এলাকার এক আত্মীয় মোবাইল ফোনে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জামাদার সরদার রমজান আলীকে বিষয়টি জানান। বকুল আহম্মেদ মাস্টার্স পরীক্ষার্থী। সে ভয়ে দোকান ও বাড়িতে তালা দিয়ে সরে রয়েছেন।
তবে তিন দিনেও শিশু চুরির সঙ্গে জড়িত রত্না, ফুলমিয়া ও তার স্ত্রী লাবনী গ্রেফতার না হওয়ায় জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: '১০০ টাকায় মিলবে পুলিশের চাকরি'








