বগুড়ার শাজাহানপুর থানার এসআই ফজলুল হকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এলাকার সাবেক মাদক ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে মাদক বিক্রি করতে বাধ্য করেন বলে দাবি করা হয়েছে। উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের জোকা গ্রামের কলেজ ছাত্র শামীম আহমেদ সুজন বগুড়ার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার কথোপকথনের ৩৩টি অডিও রেকর্ডের সিডিও জমা দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘ফজলুল হক একজন ভালো কর্মকর্তা। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের স্বার্থে মোবাইল ফোনে ওই সব কথা বলেছেন। এরপরও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসআই ফজলুল হক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘বারবার মাদকসহ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করায় আক্রোশবশত এক মাদক ব্যবসায়ী এ মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’
এদিকে অভিযোগকারী বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার জোকা গ্রামের রবিউল ইসলাম ভোটের ছেলে শামীম আহমেদ সুজন জানান, তার বাবা, ঘাসিরা গ্রামের আবু জাফর ও জোকা গ্রামের ফিরোজ আগে মাদক ব্যবসা করতেন। বর্তমানে তার বাবা এসব ছেড়ে তাবলিগ জামাতের সঙ্গে জড়িত। আর জাফর ও ফিরোজ সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। শাজাহানপুর থানার এসআই ফজলুল হক গত ২৫ এপ্রিল বিহিগ্রামের মাদক ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামকে ২০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেফতার করেন। কিন্তু তাকে চালান দেওয়ার সময় উদ্ধার ৫০ গ্রাম দেখানো হয়েছে। এসআই ফজলুল হক এ ১৫০ গ্রাম হেরোইন বিক্রির জন্য জাফর ও ফিরোজের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। বাধ্য হয়ে তারা দু’জন ওই হেরোইন বিক্রি করে দেন। এ ব্যাপারে এসআই ফজলুল হকের সঙ্গে যেসব কথা হয় তা আবু জাফর মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। পরে তিনি ৩৩টি অডিও ফাইল তাকে (সুজন) সরবরাহ করেন।
সবুজ আরও জানান, তিনি গত ২৮ এপ্রিল লিগ্যাল এইডের আইনগত সহায়তা দিবসে জেলা জজের মাদকবিরোধী বক্তব্য শুনে অনুপ্রাণিত হন। তাই তিনি মাদকের করালগ্রাস থেকে সমাজকে বাঁচাতে এসআই ফজলুল হকের মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত অডিও কথাবার্তার সিডিসহ গত ৩১ মে ডাকে করে আইজি, এআইজি সিকিউরিটি সেল, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ও বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ পাঠান। তিনি এসআই ফজলুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
শামীম আরও জানান, এ অভিযোগ করার পর পুলিশের ভয়ে তিনি বগুড়ার বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি ছাড়াও জেলা প্রজন্ম লীগের এক নেতা একই অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে এসআই ফজলুল হক বলেন, জোকা গ্রামের রবিউল ইসলাম ভোটের বিরুদ্ধে ৪৫টি মাদক মামলা আছে। তার পুরো পরিবার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের গ্রেফতার করার কারণে আক্রোশবশত তার বিরুদ্ধে ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
মোবাইল ফোনে কথোপকথন সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা আসামি ধরতে পুলিশের কৌশল। সবুজ তার এ দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছেন।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জানান, সবুজের বাবা ভোটসহ তার পরিবার ১৯৮৫ সাল থেকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
/এফএস/
আরও পড়ুন-
'ফিরে এসে দেখি কিছুই নাই, সব পুড়ে ছাই'








