সাদ্দাম হত্যা মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি
১৭ জুলাই ২০১৭, ১৬:৩০আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১৬:৪৫

সাদ্দাম হত্যা মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগ

বগুড়ার নন্দীগ্রামে খালাতো ভাই সাদ্দাম হোসেনকে (২৬) গুলি করে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিপনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ৬ দিনেও তাকে গ্রেফতার বা উদ্ধার করতে পারেনি তার অত্যাধুনিক ৭.৬৫ ক্যালিবারের বিদেশি পিস্তলটি। মামাতো বোনকে ভালোবাসা নিয়ে গত ৯ জুলাই সকালে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

তবে পুলিশ কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘খুন একজন করলেও অবৈধ ওই আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে অনেকে জড়িত। তাই অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, ৯ জুলাই সকালে রিপন খালাতো ভাই সাদ্দামের ঘরে বসেছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলির শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে রিপনকে পালিয়ে যেতে দেখে। এসময় সাদ্দামকে ঘরের বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওই রাতেই নিহতের বাবা শাহজামাল সরদার মন্টু নন্দীগ্রাম থানায় রিপনকে প্রধান আসামি ও তার ভাই বেনজির আহমেদ এবং বন্ধু আরিফের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ রিপনের বন্ধু খন্দকার বরবড়িয়া গ্রামের কারিমুল, সবুজ, আরিফ, নাজমুল ও মোশাররফকে গ্রেফতার করে । তাদের তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা রেজাউল আশরাফ জিন্নাহসহ কয়েকজন এলাকাবাসীর অভিযোগ করেন, মামাতো বোনকে দুই ফুফাতো ভাই সাদ্দাম ও রিপন ভালোবাসতো। তবে মামাতো বোন রিপনকে অপছন্দ করতো। এ কারণে রিপন তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাদ্দামকে গুলি করে হত্যা করে। এরপরও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন মিয়া উল্লিখিত পাঁচ জন ছাড়াও পণ্ডিতপুকুর কুমিরা গ্রামের মোফাজ্জল ও জিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পরে মোফাজ্জলের কাছে ২০ হাজার টাকা এবং অন্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন। শুধু একজন পুলিশের এক  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় তার কাছে থেকে কোনও টাকা নেওয়া হয়নি। পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্যের কারণে হয়রানি এড়াতে অনেকে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে। রিপন একাই হত্যাকাণ্ড ঘটালেও পুলিশ তার ভাই বেনজির ও বন্ধু আরিফকে আসামি করতে বাদীকে বাধ্য করে বলে জানা যায়।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন মিয়া জানান, রিপন একাই সাদ্দামকে গুলি করে হত্যা করলেও আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে অনেকে জড়িত আছে। লাইসেন্স ছাড়া ওই অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য পাঁচজনকে গ্রেফতার ও ৫ জনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া ওই ৫ জনের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখানে গ্রেফতার বাণিজ্যের মত কোনও ঘটনা ঘটেনি।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: আশুলিয়ায় আটক চার জঙ্গির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী