বগুড়া জেলা যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা মতিন সরকার ও শ্রমিক লীগের বহিস্কৃত নেতা তুফান সরকার এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আয় বহির্ভূত সম্পদের তদন্ত করবে দুদক। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে অনুমতি পেতে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকালে দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, মতিন, তুফান ও তাদের পরিবারের সদস্যদের স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ-সম্পত্তি এবং আয়ের উৎস জানতে তদন্ত প্রয়োজন। তাই এ ব্যাপারে অনুমতি পেতে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই তদন্ত শুরু হবে।
স্থানীয়রা জানান, বড় ভাই যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা মতিন সরকারের হাত ধরে তুফান শ্রমিক লীগে যোগদান করে। এরপর বাণিজ্য মেলায় জুয়া পরিচালনা, ব্যাটারিচালিত রিকশায় চাঁদাবাজি, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে মাত্র কয়েক বছরে কোটিপতি হয়ে যায় তুফান। সে একাধিক প্রাইভেটকারে চলাফেরা করতো। বগুড়া শহরে রয়েছে তার একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট রয়েছে ঢাকায়ও। বগুড়া শহরে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্যানিটারি স্টোরও রয়েছে তুফানের।
প্রসঙ্গত,বগুড়ার এক কিশোরীকে কলেজে ভর্তি করানোর নামে গত ১৭ জুলাই তাকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত নেতা তুফান সরকারের বিরুদ্ধে। এদিকে, ঘটনা জানতে পেরে তুফানের স্ত্রী আশা স্বামীকে দায়ী না করে ঘটনার জন্য কিশোরীটিকেই দায়ী করে। এরপর আশা তার বোন সংরক্ষিত আসনের স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার মার্জিয়া হাসান রুমকির মাধ্যমে ২৮ জুলাই ক্যাডার দিয়ে নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী ও তার মাকে তাদের বাদুড়তলার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধরের পর মাথার চুল কেটে দেয়। পরে নাপিত ডেকে তাদের ন্যাড়া করিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করালে সেই রাতেই তুফানসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৯ জুলাই তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী। এ ঘটনার পর ৩০ জুলাই তুফানকে শ্রমিকলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে আসামিরা কারাগারে আছে।
/বিএল/
আরও পড়ুন:








