সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে একটি কবিতা পোস্ট করে বগুড়ার শাজাহানপুরের ডোমনপুকুর আমিনিয়া সিনিয়র কামিল মাদ্রাসার ছাত্র আবু তালহা (১৮)। এ কারণে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তার মাথার অর্ধেক চুল কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত ১১ আগস্ট রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ডোমনপুকুরকে বলা হয় বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা। সেখানে বসে কবিতা লেখায় তালহার হাত, চোখ ও মুখ বেঁধে মারধর করে দুর্বৃত্তরা। তখন হত্যার হুমকি দেওয়ায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মিরের দেউলমুড়া গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। ফাজিল শ্রেণীতে ভর্তি চেষ্টার পাশাপাশি বগুড়ার মাঝিরা সেনানিবাসে গলফ ক্লাবে খেলোয়াড়দের ব্যাগবহনকারী হিসেবে খন্ডকালীন চাকরি করেন এই তরুণ। দুর্বৃত্তদের ভয়ে পালিয়ে থাকায় তার চাকরিও চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ডোমনপুকুর আমিনীয়া সিনিয়র কামিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর আলিম পাস করেছেন আবু তালহা। মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) বিকালে মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, তার বাবা আবদুল হালিম মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুব ভালোবাসেন তিনি।
দোষীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার (১৪ আগস্ট) রাতে শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তালহার বাবা। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ডোমনপুকুরের সোনারপাড়া গ্রামে থাকেন তিনি। এখানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রহরীর চাকরি করেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে স্বজনরা দাবি করেন— গত ১০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেসবুকে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অসাধারণ একটি কবিতা’ শিরোনামে একটি কবিতা পোস্ট করেন তালহা। এর পরদিন গভীর রাতে জামায়াত সমর্থক শরিফুল ইসলাম তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। সে তালহার মামা আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। শরিফুল ও তার কয়েকজন সঙ্গী মিলে তাকে গ্রামের নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তার চোখ ও পেছনে হাত বেঁধে ফেলে তারা। এরপর ছুরি ধরে চিৎকার করতে নিষেধ করে।
দুর্বৃত্তরা তালহাকে বলে, ‘এটা বিএনপি ও জামায়াতের এলাকা। এখানে আওয়ামী লীগের গুনগান চলবে না।’ একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে লেখা কবিতা মুছে ফেলতে নির্দেশ দেয় তারা। তা না হলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তারা তালহার মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। এরপর তিনি গ্রামে পালিয়ে যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনা তার জানা নেই। তবে এমন অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/জেএইচ/








