বগুড়ার ধুনটে ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আবদুর রশিদ (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উজজেলার পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, কয়েকদিন আগে নারায়ণপুর গ্রামের এক ব্যক্তির অটোভ্যানের ব্যাটারি চুরি হয়। ওই ব্যাটারি নিহত আবদুর রশিদের ভাতিজা বড়বিলা গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে নূর ইসলাম তার অটোভ্যানে বহন করেন। রবিবার রাত ১০টার দিকে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি এবং নারায়ণপুর গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন ভ্যানচালক নুর ইসলামের বাড়িতে আসেন। তারা চুরির অপবাদ দিয়ে নুর ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তার চাচা আবদুর রশিদ ও স্বজনরা বাধা দিতে গেলে তাদের সামনেই নুর ইসলামকে বেদম মারধর করা হয়। বাধা দেওয়ার একপর্যায়ে তারা বৃদ্ধ আবদুর রশিদকেও মারধর করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ আবদুর রশিদকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্ত্রী লিলি বেগম অভিযোগ করেন, ব্যাটারি চুরির অপবাদ দিয়ে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আমিনুল ইসলাম, রঞ্জু মিয়া, মঞ্জু মিয়া ও লতিফ মিয়াসহ ৩০-৩৫ জন রবিবার রাতে অতর্কিতভাবে বাড়িতে হামলা চালিয়ে তারা ভাতিজা নুর ইসলামকে মারধর করতে থাকেন। এতে বাধা দিতে গেলে তার স্বামীকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর রাস্তার পাশে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
ঘটনা জানতে রফিকুলের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার ফোন বন্ধ থাকায় তার কোনও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, নিহতের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি শুনেছেন ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা রফিকুলের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছিল। সোমবার (২৮ আগস্ট) বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। মামলা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







