রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে শিবির সন্দেহে পুলিশে দিয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ শাখা। শনিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মেকানিক্যাল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ মাহমুদ জয়কে (২০) মারধর করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জয়ের বিরুদ্ধে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের অনেক অভিযোগ রয়েছে। সে শিবির সদস্য কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জয় যদি সত্যি শিবিরকর্মী হয়ে নাশকতাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানা গেছে, শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন জয়। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করে পুলিশে খবর দেন। এরপর তারা এসে তাকে থানায় নিয়ে যান।
জয় বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রমের বাধা দিতেন বলে অভিযোগ রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান রিমেল রিগেনের। তার ভাষ্য, ‘যে কোনও কর্মসূচিতে সে হলের ছাত্রদের অংশগ্রহণে বাধা দিতো। ফেসবুকেও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পোস্টে বাজে মন্তব্য করতো। তার সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাইনি। বরং ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সে।’
এদিকে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, জয়ের দাদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই তরুণ সিরাজগঞ্জের চরকোশবাড়ি সবুজপাড়া এলাকার শুকুর মাহমুদের ছেলে।
ওসি আমানের কথায়, ‘শিবির সন্দেহে এক শিক্ষার্থীকে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগ। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা হচ্ছে। শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকলে ছেলেটিকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে এখন তাকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’








