বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদিপুর এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে মাছের আড়ৎ স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আড়তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও তা অগ্রাহ্য করা হয়। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আড়ৎ স্থাপনকারী ইসাহাক আলী মেম্বার জানান, সরকারি অনুমোদন নেই বিষয়টি সত্যি। তবে বাণিজ্যিক কোনও কারণে নয়, মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নে আড়ৎটি বসানো হয়েছে। এখানে কোনও চাঁদা বা জমা আদায় করা হয় না।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, ‘তদন্ত করে আড়ৎটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানা গেছে, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদিপুর মাদ্রাসা এলাকায় বগুড়া-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পূর্বপাশে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসাহাক আলী (ইসা মেম্বার) গত ৪ আগস্ট ‘আল্লাহর দান’ নামে একটি মৎস্য আড়ৎ স্থাপন করেন। সেখানে ১৭টি মাছ বিক্রির জায়গা করা হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে মাছ আসে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত পাইকারি ৬ থেকে ৮ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হয়।
এদিকে অবৈধভাবে মাছের আড়ৎ স্থাপন করায় কিচক, মোকামতলা, মহাস্থান, শিবগঞ্জ ও উথলী হাটে মাছের বেচাকেনা কমে গেছে। পাইকাররা ওইসব হাটে না যাওয়ায় মাছের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। ফলে হাটের ইজারাদাররা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
ইজারাদার ওমর ফারুক জানান, চলতি বছরের জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকায় মোকামতলা এবং ১৮ লাখ টাকায় উথলী হাট ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু আলাদিপুরে অবৈধ মাছের আড়তের কারণে এ দু’টি হাটে মাছের আমদানি নেই বললেই চলে। কোনও ক্রেতা ও পাইকার হাটে আসছে না। গত ২ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ করার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে তার ইজারামূল্য তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ রিজু জানান, গত ২৯ অক্টোবর সমন্বয় কমিটির সভায় সব ইউপি চেয়ারম্যান অবৈধ আড়ৎটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে দাবি জানিয়েছেন। অনুমতিহীন আড়ৎটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে হাটের ইজারদাররা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। সেই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব আয়ও কমে যাবে।
বগুড়া ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী তালিমুল হক জানান, অবৈধভাবে আড়ৎ বসানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সুফিয়া নাজিম বলেন, ‘অবৈধভাবে আড়ৎ বসানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







