নাটোর শহরের হাফরাস্তা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা ছাত্রলীগ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান জেম্স ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম দাবি করেন, বিএনপির আহ্বানে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতিবাদে মানববন্ধন পালনের জন্য শহরের এনএস সরকারি কলেজের অভিমুখে জেলা ছাত্রলীগের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল যাচ্ছিল। পথে হাফরাস্তা এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী অ্যাড.রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বাসভবন অতিক্রমের সময় দুলুর সহধর্মিনী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন ছবির নির্দেশে সোহেল, রনি, দেওয়ান শাহিনসহ বিএনপির অনুসারীরা ছাত্রলীগের মিছিলে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল ও পথচারী আনছার সদস্য সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়। তারা বর্তমানে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
এদিকে জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক দেওয়ান শাহীন জানান, সম্প্রতি সিংড়া উপজেলার নবগঠিত বিএনপি কমিটির পরিচিতি সভা ও অভিষেক অনুষ্ঠানে সাবিনা ইয়াসমিন ছবি প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হন। রবিবার সকালে এই কর্মসূচি ছিল। তিনি এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গত তিন দিন থেকে সিংড়ায় অবস্থান করছেন। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের অভিযুক্ত বিএনপিকর্মী সোহেল ও রনি মালার ওয়ারেন্ট থাকায় দীর্ঘদিন থেকেই নাটোরের বাইরে অবস্থান করছে। মূলত এই ঘটনাটি ছাত্রলীগের একটি পরিকল্পিত ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন উজ্জীবিত। এই উজ্জীবিত মনোবল নষ্টের অপচেষ্টা এবং বিএনপি যাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে না পারে সে কারণে নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়ার অপকৌশলের অংশ হিসেবেই ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করে বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা করছে। এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপি বা এর অঙ্গ সংগঠনের কোনও নেতাকর্মী জড়িত নেই উল্লেখ করে তিনি এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে সদর থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, আল্টিমেটামের বিষয়টি তিনি এখনও জানেন না। এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








