সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভায় হামলা, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, সরকারি কাজে বাধাদান ও পরিষদের সদস্যদের সামনে মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাসকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি অবশেষে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে। একইসঙ্গে বেলকুচি থানায় এ ঘটনায় আগে রেকর্ড করা চাঁদাবাজির মামলাটি প্রত্যাহার করে নতুন মামলার তদন্তভার বেলকুচি থানা পুলিশের বদলে সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশে হস্তান্তরও করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বেলকুচি থানায় গত ২৪ ডিসেম্বর বাদী মেয়র আশানুর বিশ্বাসের লাঞ্ছিত হওয়ার মামলার আবেদনটি দ্রুত বিচার আইনে রেকর্ডের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বাদীর এর আগে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলাটি প্রত্যাহারসহ ডিবি পুলিশকে দিয়ে নতুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত (বেলকুচি থানা)’র দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর নাসিম আব্দুল হাকিম বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে নিশ্চিত করেছেন।
সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে পাঠানো আদেশের কপিগুলো এরই মধ্যে বেলকুচি থানা ও ডিবি পুলিশে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দ্রুত বিচার আইনের ধারায় রেকর্ডকৃত নতুন মামলায়ও বেলকুচি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা, যুগ্ম আহ্বায়ক এস.এম.ওমর ফারুক সরকার ও জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাময়িক বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেনসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়,বেলকুচি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে সভা চলাকালীন পৌরসভার সভাকক্ষের দরজায় লাথি মেরে অনাধিকার প্রবেশ করে।পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও ইজারার ভাগ বাটোয়ারা এবং কর্মচারী নিয়োগে বাণিজ্যের কথা উত্থাপন করে পিস্তল ধরে মেয়রের কাছে যুবলীগ নেতা রেজা ও সহযোগীরা ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় মেয়রকে অন্যান্য সদস্যদের সামনে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় দ্রুত বিচার আইনের ধারায় মেয়র বেলকুচি থানায় মামলা জমা দিলেও ওসি সাজ্জাদ হোসেন আসামি পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে মামলা রেকর্ড করতে নানা টালবাহানা শুরু করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।
এদিকে,বেলকুচি থানার ওসি মামলা রেকর্ড না করায় জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পুলিশ সুপারকে লিখিত অভিযোগ করেন মেয়র। ঘটনার পরদিন ওসি মামলাটি গ্রহণ করলেও সেটি দ্রুত বিচার আইনে রেকর্ড না করে কৌশলে চাঁদাবাজির ধারায় রেকর্ড করেন। পরে গত ২৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শরণাপন্ন হন মেয়র আশানুর বিশ্বাস।








