পাবনা মেডিক্যাল কলেজ (পামেক) ক্যাম্পাসে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণে আধিপত্য বিস্তার ও সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) রাতের এই ঘটনায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বর্তমান সাধারণ সম্পাদকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ অবস্থায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পাবনা মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ ঘোষণা ও তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ২টার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে কলেজ প্রশাসন।
এ ঘটনায় মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সাফিকুল হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানায়, পাবনা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন ক্লাব ও রোটারি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পামেক ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি মাহফুজ নয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক অদ্বিতীয় দে’র কয়েকদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জের ধরে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে তিন দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু তোরাব মিম, বঙ্গবন্ধু হলের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, উপ যুগ্ম সম্পাদক জয়দেব কুমার সূত্রধর, সাবেক সাংস্কৃতি সম্পাদক জুবায়ের মাহাবুব, উপ-প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন, সদস্য নির্ঝর ও সাগর আহম্মেদকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, পাবনা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন পামেক ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি মাহফুজ নয়ন। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক অদ্বিতীয় দের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রোটারি ক্লাব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শুক্রবার সকালে হঠাৎ করে কলেজ প্রশাসন বেলা ২টার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে এই অল্প সময়ে বাসায় বা অন্য কোথাও যাওয়াটা খুব কষ্টের। ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে তাদের হয়রানি শিকার এবং কলেজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজ নয়ন ও সাধারণ সম্পাদক অদ্বিতীয় দে’র মোবাইল বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে পাবনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রিয়াজুল হক বলেন, ‘আমি ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্ররা ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সুনাম নষ্ট করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই রকম পরিস্থিতিতে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বেলা দুইটার মধ্যে ছাত্রদের হোস্টেল ও তিনটার মধ্যে ছাত্রীদের হোস্টেল ছেড়ে যাবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যাদের ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে শুধু সেইসব ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেখিয়ে হোস্টেলে থাকতে পারবেন।’
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ক্যাম্পাসসহ হাসপাতাল চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এই ঘটনায় মেডিক্যাল কলেজের সাবেক সভাপতি গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’







