ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বাইরে থেকে কোরবানির পশু আমদানি না করার আহ্বান জানিয়েছেন নওগাঁ জেলার খামারিরা। তাদের দাবি গরু আমদানি করলে তারা লোকসানের মুখে পড়বেন। দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণে নিরুৎসাহিত হবে খামারিরা।
বর্ষাইল গ্রামের খামারি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘একটি গরুর পেছনে আমাদের প্রতিদিন ১শ থেকে ২শ টাকা খরচ হচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছে শ্রমিক খরচ। যদি সরকার দেশের বাইর থেকে গরু আমদানি না করে, তাহলে দেশের খামারিরা কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখতে পাবে। তা না হলে খামারিদের প্রচুর লোকসান গুনতে হবে। আমরা খামারিরা আশা করবো— সরকার আমাদের কথা বিবেচনা করবে।’
কীর্ত্তিপুরের খামারি আইজুর রহমান বলেন, ‘এবার নওগাঁয় যে পরিমাণ গরু আছে, তা দিয়েই নওগাঁর চাহিদা পূরণহবে এবং অন্য জেলায়ও চালান করা করা যাবে। দেশের বাইর থেকে সরকার গরু আমদানি না করলে খামারিরা লাভবান হবে।’
আরজি-নওগাঁর সিফাত ডেইরি ফার্মের মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার খামারে বর্তমানে ৭০টি গরু আছে, যা এই ঈদে বাজারে ছাড়বো। একটু লাভের আশায় আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে গরুর যত্ন নিচ্ছি। আর সরকার যদি আমাদের কথা না ভেবে বিদেশ থেকে গরু আমদানি করে, তাহলে আগামীতে খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণ ছেড়ে দেবে। গত বছর বিদেশি গরু আমদানি করার কারণে লোকসান হলেও এবছর একটু লাভের মুখ দেখতে পাবো বলে আশা করছি। তবে গো-খাদ্যসহ অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়ার কারণে লাভ কম হওয়ারও আশঙ্কা করছি।’
আবাদপুকুর হাটের গরুর পাইকার সোলেমান হোসেন বলেন, ‘এখনও গরুর হাট জমে ওঠেনি। খামারিরা ২-৩টা করে গরু হাটে তুলছে। বেচা-বিক্রি তেমন হচ্ছে না। গরুর দামও এখন কম। অন্য জেলা থেকে পাইকার নওগাঁয় ঢুকলেই গরুর দাম বাড়বে। তবে ঈদের ৪-৫ দিন আগে থেকে বেচা-বিক্রি পুরোদমে শুরু হবে।’ গতবছরের চেয়ে এবার গরুর দাম অনেক কম বলে জানান তিনি।
নওগাঁ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘এবার জেলায় ১৯ হাজার খামারে ১ লাখ ৬০ হাজার গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। জেলায় এখন পর্যন্ত কোনও রোগবালাই গরুতে আক্রমণ করেনি। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে জেলায় যে পরিমাণ গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে, তা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য জেলায়ও চালান করা সম্ভব। আর বিদেশ থেকে গরু আমদানি করার প্রয়োজন নেই। সরকার যদি বিদেশ থেকে গরু আমদানি না করে, তাহলে এবার খামারিরা লাভবান হবেন।’








