রাজবাড়ী জেলায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। সদর উপজেলাসহ জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি খামারে সার্বক্ষণিক নজরদারিও করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণ করার জন্য খামারিদের উৎসাহিত করা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘তবে ভারতীয় গরু এলে খামারিরা লোকসানের মুখে পড়বে।’
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘কোরবানির ঈদের প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই খামারিরা পশু মোটাতাজা করতে শুরু করেন। কোরবানির পশুর হাটগুলোতে সুস্থ-সবল পশু বিক্রয়ের লক্ষ্যে প্রাণি সম্পদের পক্ষ থেকে ভেটেনারি টিম কাজ করবে। ’
জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, জেলায় এ বছর ৫ শতাধিক খামারে ৬ হাজার ৫৭৬টি ষাঁড়, ১৬৭টি বলদ, দুইটি মহিষ,৪ হাজার ৩০০টি ছাগল, ৯২টি ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কোনও প্রকার নিষিদ্ধ মোটাতাজাকরণ ওষুধ বা ইঞ্জেকশন ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে পশু পালন করায় দেশের বিভিন্ন জেলায় রাজবাড়ীর সুনাম রয়েছে বলে জানান খামারিরা। সুনামের কারণেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগ্রহী ক্রেতারা ছুটে আসছেন রাজবাড়ীর খামারগুলোতে।
রাজবাড়ী জেলা সদরের ১নম্বর বেড়াডাঙ্গা এলাকার খামারি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘ধানের কুড়া, কাঁচা ঘাস, গমের ভুষি, ভুট্টা, ডাল, সরিষার খৈল, আখের গুড় ও লবণসহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এবারের ঈদে ভারত থেকে পশু আমদানি না হলে দেশীয় খামারিরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি আগামীতে খামার করতে উৎসাহিত হবেন অনেকে।’ জাহিদের খামারে মোট ৩১টি ষাঁড় মোটাতাজা করা হচ্ছে। তিনি নওগাঁ জেলা ও রাজবাড়ী জেলা সদরের কুটির হাট থেকে এগুলো কিনেছেন বলে জানান।
বালিয়াকান্দি উপজেলার গো খামারি নাজির মোল্লা বলেন, ‘গত বছর ৩৭টি ষাঁড় গরু পালন করে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা লাভ হয়েছিল। এ বছর ৩০টি ষাঁড় পালন করছি। জেলার স্থানীয় হাটে গরুগুলো বিক্রি করা হবে।’








