প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করা বগুড়া শহর যুবলীগ সভাপতির ছেলে কাওসার অভি (২২) তিন দিনেও গ্রেফতার হয়নি। গত বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে শহরের কাটনারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, অভিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের সেউজগাড়ি এলাকার মাসুদ নামে এক ব্যক্তি বগুড়া শহর যুবলীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম জয়ের বন্ধু ছিলেন। চারদলীয় জোট সরকারের সময় গ্রেফতার এড়াতে জয় নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ওই বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপন করেন। একপর্যায়ে মাসুদের স্ত্রীর সঙ্গে জয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে মাসুদ তার স্ত্রীকে তালাক দিলে যুবলীগ নেতা জয় তাকে বিয়ে করেন। সে ঘরে জন্ম হয় কাওসার অভির।
বগুড়া শহরতলির পালশা বিদ্যুৎনগর এলাকার জাহিদুর রহমানের মেয়ে বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে পড়ে। লেখাপড়ার পাশাপাশি শহরের বাদুড়তলায় রূপছাড়া বিউটি পার্লারে বিউটিশিয়ানের কাজ শেখে। বাড়ি থেকে কলেজে যাতায়াতের পথে অভি তাকে উত্ত্যক্ত করতো। ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো অভি। এতে সাড়া না দেওয়ায় ওই কলেজছাত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হয় অভি।
গত ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে অভি ও তার তিন সঙ্গি বাদুড়তলায় ওই বিউটি পার্লারে যায়। সেখান থেকে ছাত্রীকে তুলে কাটনারপাড়ার একটি বাড়িতে নেয়া হয়। আবারও প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে মারধর করার পর উরু ও হাতে ছুরিকাঘাত করে। এরপর হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নামাজগড় এলাকার ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আজিজ মন্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুক্রবার বিকালে রিলিজ ছাড়াই ছাত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শনিবার বিকালে ছাত্রীর বাবা জাহিদুর রহমান সদর থানায় অভি ও তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।’
ছাত্রীর বাবা জাহিদুর রহমান বলেন, ‘অভি তার মেয়েকে অনেকদিন থেকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার বাদুড়তলা থেকে তুলে নিয়ে ছুরিকাঘাত করেছে। তাকে মারধর করা হয়েছে। ঝামেলা এড়াতে এ ঘটনায় মামলা করার ইচ্ছা ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত শুক্রবার অভির মা হাসপাতালে এসে বিষয়টি মীমাংসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমিও মীমাংসার করার চেষ্টা করছি। তাই হাসপাতাল থেকে রিলিজ ছাড়াই মেয়েকে বাড়িতে এনেছি।’ এ ব্যাপারে আসামিপক্ষের কোনও হুমকি নেই বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে অভির বাবা যুবলীগ নেতা মাহফুজুল আলম জয়ের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, অভি তাদের সন্তান নয়। জয় ওই সন্তানসহ দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। অভির এসএসসির সনদে জয়ের নামও নেই।
তারা আরও জানান, তাদের পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই কোনও মহল এসব করছে।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ (মিডিয়া) সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আসামি অভিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।’
ফোন বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে বগুড়া শহর যুবলীগ সভাপতি মাহফুজুল আলম জয় ও তার ছেলে কাওসার অভির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








