বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চলতি বছর বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মোট ৭ কোটি ৮০ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৮ টাকা রেভিনিউ আদায় করেছে। এর কারণ হিসেবে বিআরটিএ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, নওগাঁ জেলায় যানবাহন চালক ও মালিকদের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স তৈরির প্রবণতা বেড়েছে।
তিনি জানান, প্রতিদিন অসংখ্য লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, রোড পারমিট নবায়ন, ট্রেড সার্টিফিকেট নবায়ন ও লারনার লাইসেন্স ইস্যু করা হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত যানবাহন চালক ও মালিকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
মেহেদী হাসান বলেন, ‘গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের উল্লেখিত পরিমাণ অর্থ আয় হয়েছে। এরমধ্যে ৪ হাজার ৪৭৭টি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাবদ ৩ কোটি ১৪ লাখ ২৯ হাজার ২৩৬ টাকা, ৪৪টি ডুপলিকেট রেজিস্ট্রেশন বাবদ ১৫ হাজার ১৮০ টাকা, একটি যানবাহনের অ্যানডরসমেন্ট বাবদ ৮৬৩ টাকা, ৬০টি যানবাহনের মালিকানা পরিবর্তন বাবদ ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৮৬ টাকা, ৩টি যানবাহনের মোডিফিকেশন বাবদ ২ হাজার ২৪৪ টাকা, ১টি যানবাহনের অ্যানডরসমেন্ট অব হায়ার পার্সেস বাবদ ১ হাজার ৭২৫ টাকা, ১৫টি যানবাহনের ফিটনেস ইস্যু বাবদ ১৬ হাজার ৩০৫ টাকা, ৪৭৩টি যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন বাবদ ১০ লাখ ৭৪৫ হাজার ৪৪৭ টাকা, ৪৮টি যানবাহনের ফিটনেসের নকল সনদপত্র বাবদ ৯ হাজার ৬৭ টাকা, ১৯টি যানবাহনের রুট পারমিট বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার ১৩০ টাকা, ১টি যানবাহনের ডুপলিকেট রুট পারমিট ইস্যু বাবদ ৩৩৪ টাকা, ৪ হাজার ৪৭৮টি ট্যাক্স টোকেন ইস্যু বাবদ ১ কোটি ১২ লাখ ৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, ৫ হাজার ৭৩৩টি লারনার লাইসেন্স ইস্যু বাবদ ২০ লাখ ৭৬ হাজার ৩২২ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ৪৫ হাজার ৯২০টি কার্যক্রমের মাধ্যমে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯১ টাকা আয় হয়েছে। এছাড়াও এই সময়ে ৪ হাজার ২২১ জন চালককে লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে মোট আয় হয়েছে ৩৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪৫ টাকা। এরমধ্যে ১ হাজার ৬৭৯ জন পেশাদার চালককে লাইসেন্স দিয়ে আয় হয়েছে ২২ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৫ টাকা এবং ২ হাজার ৫৪২ জন অপেশাদার চালককে লাইসেন্স দিয়ে আয় হয়েছে ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯০ টাকা।
এ ব্যাপারে নওগাঁর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন গণসচেতনতামূলক এবং প্রচারধর্মী কার্যক্রমের ফলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মাঝে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা অনেকটা দূর হয়েছে। এ কারণে বিশেষ করে যানবাহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র তৈরির প্রবণতা ফিরে আসতে শুরু করেছে। তারা যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র তৈরির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।








