নওগাঁর মান্দা উপজেলার বৈদ্যপুর বাজারে নকল সার ও কীটনাশক তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। কারখানা মালিক আরিফ হোসেনকে (৪৮) গ্রেফতার করা হয়েছে।
মান্দা থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলাম শুক্রবার রাতে বৈদ্যপুর বাজারের গোড়রা এলাকায় কারখানাটির সন্ধান পান। এরপর অনুসন্ধান চালিয়ে নকল সার ও কীটনাশক তৈরির সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ উপকরণ ও সরঞ্জামসহ কারখানাটির মালিক আরিফ হোসেনকে পাশের একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।তাকে মান্দা থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে মান্দা থানায় একটি মামলা হয়েছে।
আরিফ হোসেন খুলনার খানজাহান আলী উপজেলার শিরোমনি উত্তরপাড়া এলাকার মৃত. শওকত হোসেনের ছেলে।
পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন জানান, কারখানাটির সন্ধান পাওয়া পুলিশের একটি বড় ধরনের সাফল্য। কারখানার মালামাল জব্দ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
ইউপি সদস্য ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা জানান, কারখানার মালিকরা আন্টু ও আজিজুলের তিনটি বাসা মাসিক ২ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালু করেন। মাসিক বেতনে ৩৫জন কর্মচারী সেখানে নিয়মিত কাজে নিযুক্ত ছিল। এলাকার কতিপয় ব্যক্তির ছত্রছায়ায় কারখানটিতে নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদনসহ বাজারজাত করে আসছিলেন অভিযুক্তরা। শনিবার সকালে কারখানাটিতে গিয়ে দেখা গেছে, তিনটি ভবনের একটিতে জিংক সার তৈরির উপকরণ, মিক্সার মেশিন, স্তূপ করা মাটিসহ অসংখ্য মাটি ভর্তি বস্তা ও মোটা দানার বালুর (ডোমার বালু) স্তূপ পাওয়া গেছে। এ ভবনের অন্য একটি কক্ষে বালুতে রঙ মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দানাদার কীটনাশক। অপর ভবনে মিক্সার মেশিন, বালু ভর্তি বস্তা, ডায়াজিনন, বাসুডিন, ফুরাডান, ব্রিফার ৫জি, জেডফুরান থিয়োভিট পাউডার, গ্রীণ জিংকসহ বিভিন্ন নামী-দামি কোম্পানির মোড়কে নকল কীটনাশক পাওয়া গেছে। অন্য ভবনটিতে মোড়ক সেলাই করার মেশিনসহ পাওয়া গেছে অন্যান্য সরঞ্জাম।
খবর পেয়ে কৃষি অধিদফতর নওগাঁর উপপরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি কারখানাটির কার্যক্রম দেখে বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যান। কারখানাটির উপকরণ দেখে তিনি মন্তব্য করেন, এখানে উৎপাদিত সার ও কীটনাশক নকল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যা কৃষকের সঙ্গে চরম প্রতারণা। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। এদিকে শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নওগাঁ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন ও মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, বৈদ্যপুর বাজারের গোড়রা এলাকার আনিছুর রহমান আন্টু ও আজিজুল ইসলামের বাসা ভাড়া নিয়ে খুলনার আরিফ হোসেন, যশোরের মুকুল হোসেন, মধু চন্দ্র ও এমদাদুল হক এবং নিলফামারী জেলার রফিকুল ইসলাম এক বছর ধরে কারখানাটির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। কারখানাটি বাজার থেকে একটু দূরে নির্জন এলাকায় হওয়ায় সেখানে কি তৈরি হচ্ছে এ বিষয়ে তারা অবহিত ছিলেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, কারখানাটির সামনে প্রতিনিয়ত ট্রাক ভর্তি করে বালু ও মাটি নিয়ে আসা হতো। এগুলো দিয়ে কারখানার ভেতরে কি কাজ করা হত সেটি তারা জানতেন না।








