নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাতকুন্ডু গ্রামে ঘুমন্ত ভূমিহীন পরিবারের ওপর ভূমিদস্যুদের আকস্মিক আক্রমণে দুই নারীসহ ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে। এ সময় ভূমিদস্যুরা ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাতকুন্ডু গ্রামে একটি খাস জমির ওপর গত বছরের ৩১ সেপ্টেম্বর একই গ্রামের প্রায় ৩৪টি ভূমিহীন পরিবার ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিল। কিন্তু আদমপুর গ্রামের মৃত ফজর আলী মণ্ডলের ছেলে রফিক মণ্ডলের ওয়ারিশরা ওই সম্পত্তি নিজেদের (পত্তন সূত্রে) বলে দাবি করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গত ২৪ দিন অনেক দেনদরবার হয়েছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভূমিহীন পরিবারগুলো আদালতের আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে ভূমিদস্যু রফিকুলের ওয়ারিশরা বিভিন্নভাবে ভূমিহীনদের জমি থেকে উঠে যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল। অবশেষে সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টায় রফিকুলের ছেলের নেতৃত্বে প্রায় ২শ’ ভাড়া করা লাঠিয়াল ঘুমন্ত ভূমিহীন পরিবারের ওপর বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে।
এর ফলে ভাতকুন্ডু গ্রামের আটজন আহত হয়। তারা হলেন মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৭০), মৃত মেহের আলীর ছেলে সামসুদ্দিন (৩৫), সাইফুল ইসলামের ছেলে শাহিন (৩২), মৃত তাছের আলীর স্ত্রী আনোয়ারা (৪৫), শাহিনের স্ত্রী ফাতেমা (২৭), রেজাবুলের ছেলে রায়হান (২১), মৃত তহির মণ্ডলের ছেলে মোজাফফর হোসেন (৪৪), মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫)। এরমধ্যে রিয়াজ উদ্দিন (৭০) ও সামসুদ্দিনের (৩৫) অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভূমিদস্যু রফিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ভূমিহীন আব্দুর রহমান বলেন, ‘ভূমিদস্যু রফিকুলের ছেলেরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। আমরা বলেছি, আইনগতভাবে যদি আপনারা জমি পান তাহলে আমরা এখান থেকে চলে যাবো। কিন্তু জোর করলে যাবো না। তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়, থানা, এমনকি আদালতে গিয়ে কোনও ফায়দা করতে পারেনি। এখন পেশিশক্তি আর টাকার বিনিময়ে ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আমাদের ঘুমন্ত পরিবারের ওপর আক্রমণ করেছে। বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং মালামাল লুট করেছে।’
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমূল হক বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি শুনেছি। রফিকুলের নেতৃত্বে বেশ কিছু লোক ভাতকুন্ডু গ্রামে একটি খাস সম্পত্তির ৩৪টি ভূমিহীন পরিবারের ওপর হামলা করেছে। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








