সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিক্রয় নিষিদ্ধ সরকারি ওষুধ উল্লাপাড়া থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১২। র্যাব-১২ ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাকিবুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে উল্লাপাড়ার পশ্চিমপাড়া থেকে এসব ওষুধ উদ্ধার করা হয়। বুধবার দুপুরে র্যাব-১২’র সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের এসব তথ্য জানানো হয়।
অভিযানের সময় ওষুধ পাচারকারি চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে পাচারকারী চক্রের মূল হোতা শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের স্টোর কিপার উল্লাপাড়ার শ্যামলীপাড়ার বাসিন্দা চিত্ত রঞ্জন আগেই পালিয়ে গেছে।
তারা হলেন, পশ্চিমপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম (২৮), শ্যামলীপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস (২৬) ও পুঠিয়া গ্রামের আবু শামা (৩৮)।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছ ৯৬ পিস সুপারডেক্স, ২শ পিস স্পিনোক্যান, ২ হাজার পিস প্যান্টোপ্যারাজল, ৫০ পিস সেফট্রিয়াক্সন ইনজেকশন, ১২০ পিস ইউরিন ব্যাগ, ৩৫ পিস কে এমএম-৩৫ ইনজেকশন, ৪০ পিস এসোরাল, ১শ’ পিস ডিস্ট্রিল ওয়াটার, ৫শ’ ৮৮ পিস ট্রুগাট, ১শ’ ৮০ পিস ক্যাথিটার ও ৩টি মোবাইল। ওষুধের দাম প্রায় সোয়া লাখ টাকা।
র্যাব-১২ ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাকিবুল ইসলাম খান গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের স্টোর কিপার চিত্ত রঞ্জন সরকারের যোগসাজসে বিক্রয় নিষিদ্ধ সরকারি ওষুধ উল্লপাড়ায় বিক্রয় করা হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এ চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাসে এর সঙ্গে স্টোর কিপার চিত্ত রঞ্জন সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আটককৃতরা। বুধবার বিকেলে উল্লাপাড়া থানায় র্যাবের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। মামলায় স্টোর কিপার চিত্ত রঞ্জন সরকারসহ আটক তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই স্বাস্থ্য বিভাগসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।
শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জোবাইদা খাতুন বুধবার বিকেলে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমি কর্মশালায় রাজশাহী এসেছি। ফিরে এসে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিব।
সিভিল সার্জন ডা. কাজী শামিম হোসেন বলেন,‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তারপরও এ ধরনের অপরাধ কোনভাবেই সহ্য করা যায় না। সে যদি অপরাধী হয়, তাহলে র্যাব অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিবে। বিষয়টি আমরাও খতিয়ে দেখবো।’
অভিযুক্ত স্টোর কিপার চিত্ত রঞ্জন সরকার মোবাইল ফোনে বলেন,‘আমি অসুস্থ্য বিধায় অফিসে যাইনি। বিক্রয় নিষিদ্ধ চোরাই সরকারি ওষুধ পাচারকারীদের আমি চিনিও না। কেন যে তারা আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে,তা বুঝতে পারছি না।








