রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সদর আসন ছাড়া বাকি পাঁচটিতে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। পাঁচ আসনের মধ্যে একটিতে এসেছে নতুন মুখ। আর এই ছয়টি আসন থেকে ৪৬ জন দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। রবিবার (২৪ নভেম্বর) আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিতরা।
তারা জানান, দলের গণতন্ত্র ও সাংগঠনিক বিকাশের ধারা থেকেই তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু সবাই তো মনোনয়ন পাবে না। তার মানে এই নয় যে, দল থেকে তারা অবাঞ্ছিত। দলের প্রধান যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। দলকে জেতাতে হবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটা দলে নেতৃত্বের বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু সেই বিরোধ কাটিয়ে উঠে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়।
রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে ১ আসনে ওমর ফারুক চৌধুরী, ৩ আসনে আয়েন উদ্দিন,৪ আসনে এনামুল হক, ৫ আসনে ডা. মনসুর রহমান ও ৬ আসনে শাহরিয়ার আলম দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। রাজশাহী-২ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন শরিক দলের প্রার্থী ও বর্তমান এমপি ফজলে হোসেন বাদশা।
রাজশাহী-৩ আসন থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘মনোনয়ন না পাওয়ায় দুঃখ হচ্ছে। যেহেতু দল করি সেহেতু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারি না। দল থেকে যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তার পক্ষেই কাজ করবো।’
মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল হক মাসুদ বলেন, ‘পুঠিয়া-দুর্গাপূর থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি তৃণমূলের রাজনীতি না করলেও কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। আমি নিজে মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও দল যেহেতু তাকে মনোনয়ন দিয়েছে সেহেতু তার পক্ষেই কাজ করবো।’
মনোনয়ন বঞ্চিত আরেক নেতা ওবাইদুর রহমান বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তই মেনে নেবো।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী-৫ আসনে মনোনায়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি তাজুল ইসলাম ফারুক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনায়নপত্র তুলেছেন। রবিবার (২৫ নভেম্বর) মনোনয়নপত্র তিনি জমা দিয়েছেন। তবে নির্বাচন করাবেন কিনা সিদ্ধান্ত নেননি।
মনোনয়ন বঞ্চিত গোলাম রাব্বানীও বলেন, ‘গোদাগাড়ী-তানোরে আমার শক্ত অবস্থান ছিল। কিন্তু দল থেকে ওমর ফারুককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এখন দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করবো।’
বাগমারার তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তো কিছু নেই। নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তার পক্ষেই কাজ করবো।’
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘দল বিবেচনা করে আমাকে তৃতীয়বারের মতো মনোনয়ন দিয়েছেন। ১০ বছরে এলাকায় যে উন্নয়ন করেছি, সে উন্নয়ন দেখে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। জনগণ আমাকে পরপর দু’বার নির্বাচিত করেছেন। তৃতীয়বারের মতো জনগণ আমার উন্নয়ন দেখে আমাকে পুনরায় নির্বাচিত করবেন।’
মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দেননি। কাকে মনোনয়ন পাইনি সেটা বড় কথা নয়, যাকে নৌকা দিয়ে এলাকায় পাঠিয়েছেন তার পক্ষেই কাজ করবো।’
মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য রায়হানুল হক রায়হান বলেন, ‘আমি নৌকার পক্ষে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো কিনা তা এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।’
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পৌরমেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ বলেন, ‘উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে আয়েন উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিগত দিনে পবা-মোহনপুরের যথেষ্ট উন্নয়নের কারণে জনসাধারণ আবারও আয়েন উদ্দিনকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন এবং বিপুল ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করবে।’
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলফোর রহমান বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামানের অনেক জনপ্রিয়তা থাকলেও জননেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন আমরা তার পাশে থেকে নৌকা মার্কাকে জয়ী করতে প্রস্তুত।’







