বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে নয়; সরকার নির্বাচন বানচাল করতে চায়। তবে যত নির্যাতনই হোক; আমরা নির্বাচন থেকে সরবো না।’
শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে এক নির্বাচনি কর্মিসভায় তিনি একথা বলেন।
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা দ্বন্দ্ব ও ভেদাভেদ ভুলে ৩০ ডিসেম্বর ভোট দিতে যাবেন ও ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন; দেখবেন যাতে কেউ আপনার ভোট কেড়ে নিতে না পারে।’
বগুড়ার মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে ভোট করতে আসিনি; খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি।’
বগুড়া সদর আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা একেএম মাহবুবর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক তাহা উদ্দিন নাহিনের সঞ্চালনায় সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন বক্তব্য রাখেন।
সভার শুরুতে সভাপতি হিসেবে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের নাম ঘোষণা না করে একেএম মাহবুবর রহমানের নাম ঘোষণা করায় সাইফুল সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। মঞ্চে মির্জা ফখরুল ইসলামের উপস্থিতিতে সাইফুল সমর্থক জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ্ মেহেদী হাসান হিমু সিনিয়র নেতাদের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন ও চিৎকার করেন। এ সময় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাদের আচরণে বিব্রত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা নিজেদের মধ্যে দলাদলি করলে কখনও খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও তারেক রহমানকে দেশে আনতে পারবেন না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বুঝে গেছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের পরাজয় হবে। তাই ড. কামাল ও আমিসহ দেশের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে।’
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভেদ ভুলে ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অন্য নেতারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করলেও আপনারা পারবেন না কেন?’
তিনি বলেন, ‘এ সরকার খালেদা জিয়া, তারেক রহমানকে ভয় পায়; তাই সুপ্রিম কোর্ট জামিন দেওয়ার পরও অন্যায়ভাবে নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখেছে।’
দুপুরে স্থানীয় বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন মির্জা ফখরুল। মসজিদে সবার কাছে দোয়া চান তিনি। নামাজ শেষে মসজিদের সামনে থেকে তিনি নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন।








