বগুড়া-৫ আসনে শেরপুর উপজেলায় গণসংযোগ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, গাড়ি ও নির্বাচনি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মারপিটে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বিকালে কুমুম্বী ইউনিয়নের গোসাইবাড়ি বটতলা এলাকায় এ ঘটনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির তিন নেতাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার নেতারা হলেন, শেরপুর পৌর বিএনপি সভাপতি বিএইচএম কামরুজ্জামান রাফু, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আসাফউদ্দৌলা মামুন ও ছাত্রদল নেতা আপেল মাহমুদ।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ অভিযোগ করেন, সোমবার বিকাল আড়াইটার দিকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গোসাইবাড়ি বটতলা এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবর রহমানের লোকজন তার গাড়িবহর আটকে দেয় এবং হামলা চালায়। তার বহরে থাকা তিনটি গাড়ি ও ৫-৬টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। মারপিটে তার কয়েকজন কর্মীও আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন,‘পুলিশ উল্টো তার তিন নেতাকে গ্রেফতার করেছে।’ সিরাজ এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবি করেন।
অন্যদিকে কুসুম্বি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী সনজু জানান, সোমবার দুপুর থেকেই দলের নেতাকর্মীরা একই এলাকায় নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করছিলেন। এতে নৌকা ও ধানের শীষ কর্মী সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেখানে কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি। প্রার্থীতা নিয়ে কোন্দলে বিএনপির লোকজন গাড়ি ভাঙচুর ও মারপিট করেছে। হামলায় আওয়ামী লীগের ৩-৪ জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন,শেরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সরিফ মাহমুদ, কুসুম্বি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি মফিদুল ইসলাম এবং ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসতিয়াক মাহমুদ।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগে আওয়ামী লীগের লোকজন প্রথমে হামলা, গাড়ি ও নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করে। পরে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা -ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকায় বিএনপির তিন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিকাল পর্যন্ত কেউ মামলা দেয়নি। মামলা পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







