পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম দফায় রাজশাহীর আট উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে রবিবার (১০ মার্চ)। ইতোমধ্যেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনি সামগ্রী। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকে রাজশাহীতে তিন স্তরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজশাহীর সব উপজেলায় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে পবা উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে না। একবছরের জন্য স্থগিত রয়েছে সেখানকার ভোট। বাকি ৮ উপজেলায় নির্বাচনের কারণে তিন স্তরে নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ।
মো. শহিদুল্লাহ জানান, নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা পুলিশের প্রায় ২ হাজার সদস্য। প্রত্যেক সাধারণ ভোটকেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে কেবল বাড়বে একজন পুলিশ সদস্য। প্রতি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দু’টি করে মোট ১০৯টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছে। প্রত্যেক থানায় রয়েছে একটি করে স্ট্রাইকিং টিম। প্রস্তুত আছে জেলা পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। এ ছাড়া, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য আছেন রিজার্ভে। নির্বাচনে নগর পুলিশও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
এদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, রাজশাহীতে ৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১টি পিকআপ, ২টি ট্রাক, ৬টি সিভিল পিকআপ, ২টি মোটরসাইকেল এবং ২টি প্রশিক্ষিত কুকুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডমিনেশন টহল পরিচালনা করছে তারা।
রাজশাহীতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৫২২ কেন্দ্রে। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ভোটকেন্দ্র ধরা হয়েছে ২১৬টি। বাকি ৩০৬টি কেন্দ্র সাধারণ ধরে নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের আওতাধীন ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৬টি। এর মধ্যে পুঠিয়া উপজেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১টি এবং চারঘাটে ৫টি। মহানগর পুলিশের প্রত্যেক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভোটকেন্দ্র ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ।
জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৫১ কেন্দ্রে। ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৩টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে এ উপজেলায়। গোদাগাড়ী উপজেলায় ৯৮ ভোটকেন্দ্রের ৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৫৮টি সাধারণ। মোহনপুর উপজেলায় ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্র ৪৪টি। বাগমারায় জেলার সর্বাধিক ১০৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৯টি সাধারণ। দুর্গাপুরের ৫৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি সাধারণ। জেলার পুঠিয়ায় ৫২ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর মধ্যে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৯টি সাধারণ। চারঘাট উপজেলায় ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ মিলিয়ে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪৪টি। এ ছাড়া, বাঘা উপজেলার ৫৯ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এখানকার ২২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ ধরে নিরাপত্তা কৌশল ঠিক করেছে পুলিশ।
গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা ও চারঘাট উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছেছে।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম আরও জানান, জেলার তানোরে একলাখ ৪৫ হাজার ৩৪৩, গোদাগাড়ীতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৩, মোহনপুরে একলাখ ২৯ হাজার ২৪৮, বাগমারায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৪, পুঠিয়ায় একলাখ ৬০ হাজার ৭২৪, দুর্গাপুর একলাখ ৪১ হাজার ১০৫, চারঘাটে একলাখ ৫৯ হাজার ৭২৫ এবং বাঘায় একলাখ ৪৪ হাজার ৫৭৩ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
রাজশাহীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মোট ৮৯ জন প্রার্থী। যাচাইবাছাইকালে মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ১৬ জনের। এক চেয়ারম্যান, এক ভাইস-চেয়ারম্যান ও দুই মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী আবার নির্বাচনে ফিরেন হাইকোর্টের রায়ে। ভোটের মাঠে রয়েছেন ১৮ চেয়ারম্যান, ৩১ ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ২০ মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী। তবে এর মধ্যে তিনজনের কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তাদের মধ্যে দু’জন চেয়ারবাঘার লায়েব উদ্দিন লাভলু ও মোহনপুরের আবদুস সালাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হচ্ছেন। দু’জনই ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী। যাচাইবাছাইকালে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে, গোদাগাড়ীর মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী সুফিয়া খাতুন মিলির সঙ্গে ভোট করতে অন্য কেউ মনোনয়নপত্রই তোলেননি। তাই তিনি নির্বাচিত হচ্ছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।






