ফণীর কারণে নওগাঁয় বোরো ধানের ক্ষতির আশঙ্কা

নওগাঁ প্রতিনিধি
০৭ মে ২০১৯, ১৪:০৫আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ১৪:১৮

ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে নওগাঁয় বোরো ধান ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুই দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষেতে পানি জমে গেছে। এছাড়া ঝড়ো হাওয়ার কারণে অধিকাংশ ক্ষেতের ধান গাছ মাটিতে নুয়ে পড়ায় ধানের শিষগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় পানি দ্রুত না সরলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।  

জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নওগাঁ জেলায় শুক্রবার (৩ মে) বেলা ১১টা থেকে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়।  শনিবারও (৪ মে) কখনও মুষলধারে আবার কখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়। টানা বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ঝড়ো হাওয়াও বয়ে যায়। এতে অধিকাংশ মাঠেই নিচু জমিগুলোয় বোরো ক্ষেতে পানি জমে যায় এবং ঝড়ের কারণে বেশির ভাগ ধানগাছ পড়ে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নওগাঁয় ১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমার বোরো ক্ষেতে বৃষ্টি পানি জমে আছে। অধিকাংশ ক্ষেতের ধান গাছ পড়ে গেছে। ক্ষেতের পাকা ধানের শিষগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। আমি জমির আইল কেটে পানি বের দেওয়ার চেষ্টা করছি। পানি বের না হলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে।’

একই অবস্থা নওগাঁ সদর উপজেলা,ধামইরহাট,মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে।

মান্দা উপজেলার গণেশপুর গ্রামের কৃষক সুলতান হোসেন বলেন, ‘দুই দিনের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় মাঠের অধিকাংশ বোরো ধানের গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। ক্ষেতে পানি জমে গেছে। মাটিতে পড়ে যাওয়া ধান কাটতে শ্রমিক খরচও বেশি পড়ে যাবে।’

ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত জগৎসিংহপুর গ্রামের কৃষক আইজার হোসেন বলেন, ‘আমার সব ক্ষেতের ধান পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারেনি। এখন বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে সব ক্ষেতের ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। ধানের শিষ গুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই তিন দিন পানি জমে থাকলে সব ক্ষেতের ধান পচে যাবে।’

নওগাঁ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা একেএম মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় কিছু কিছু বোরো ক্ষেতের ধান গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে এবং ক্ষেতে পানি জমে গেছে। তবে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছি না। কৃষকেরা ক্ষেতের আইল কেটে পানি বের করে দিচ্ছে যার ফলে আর ধান নষ্ট হবে না।’

মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বলেন, মান্দায় বিল এলাকার মাঠগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেতের ধানই কাটা হয়েছে। বিলগুলো থেকে প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধানগুলো কিছুটা নষ্ট হতে পারে। এছাড়া উঁচু জমিগুলোয় পানি জমলেও দ্রুত পানি নেমে যাবে। ফলে ওই সব মাঠে খুব বেশি ধান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, ফণীর প্রভাবে ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব এখনও নিরূপণ করা যায়নি। তবে টানা রোদ হলে বোরো ধান কিংবা অন্যান্য ফসলের তেমন কোনও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মিষ্টির দোকানে জরিমানা, কী ঘটেছিল ইউএনওর সঙ্গে
মিষ্টির দোকানে জরিমানা, কী ঘটেছিল ইউএনওর সঙ্গে
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের