রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন বিভাগের দুই ছাত্রী। মঙ্গলবার (২৫ জুন) তারা এ অভিযোগ করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য ওই রাতে ইনস্টিটিউটের এক সভায় তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন বিষ্ণু কুমার।
কয়েকজন শিক্ষকের দাবি, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে বিষ্ণু কুমারের স্ত্রী আবেদন করেছেন। সামনে তার ভাইবা পরীক্ষা। ওই শিক্ষককে মানসিকভাবে চাপে রাখতে শিক্ষকদের একটি মহল শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ কাজটি করিয়েছেন।
অভিযোগ করার দু’দিন পর শুক্রবার (২৮ জুন) ওই দুই ছাত্রী নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তারা উল্লেখ করেছেন, বিষ্ণু কুমারের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, ‘বিষ্ণু কুমারকে আমি যতটুকু জানি তিনি এ ধরনের কাজ করতে পারেন বলে আমার মনে হয় না। যেহেতু সামনে তার স্ত্রীর নিয়োগ পরীক্ষা, তাই এ মহূর্তে এ ধরনের অভিযোগ আমার কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। যদি কেউ ইনটেনশনালি এ রকম করে থাকে তবে তারও শাস্তির দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষ্ণু কুমার বলেন, ‘শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৭টি কোর্সের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এরমধ্যে পরিসংখ্যান কোর্সে আমার স্ত্রী আবেদন করেছে। সামনে আমার স্ত্রীর ভাইবা পরীক্ষা।’
আপনার স্ত্রীর নিয়োগ ঠেকাতেই কী এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা খোঁজ-খবর নিয়ে সত্য বিষয়টা তুলে ধরেন। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই আমি এখন কোনও মন্তব্য করবো না।’
অভিযোগ করা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্যারের স্ত্রীর নিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে, বিষয়টি আমরা জানি। তবে তার নিয়োগের সঙ্গে অভিযোগের কোনও সর্ম্পক নেই। আর শিক্ষকদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
এদিকে তদন্ত সাপেক্ষে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা রবিবার (৩০ জুন) মানববন্ধন করবে বলে জানা গেছে।








