মাগুরার শ্রীপুরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে লাফিয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম নিখোঁজ হয় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। নিখোঁজের একদিন পর বুধবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কুমার নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ অভিযোগ অস্বীকার করে মাগুরা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমিরুলের নদীতে লাফিয়ে পড়ার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।’
এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা ডিবির ওসি নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল শ্রীপুর উপজেলার হাট শ্রীকোল বাজারে যায়। এ সময় শ্রীকোল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। বাজারে পুলিশ আসার খবর পেয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশও তাকে ধাওয়া করলে তিনি নদীতে লাফিয়ে পড়েন। নদীতে লাফিয়ে পড়ার পর তাকে দেখতে না পেয়ে এলাকাবাসী উপস্থিত পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার অধীর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘রাতে এলাকাবাসীর সহায়তায় নদীতে জাল ফেলা হলেও তার লাশ পাওয়া যায়নি। পরদিন (বুধবার) সকাল ১০টার দিকে কুমার নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’
শ্রীকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুতাসিম বিল্লাহ সংগ্রাম জানান, শ্রীকোল গ্রামে হাফিজার মাস্টার ও বাহারুল মেম্বারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত ১০ জুন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ২১৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। হাফিজার মাস্টার গ্রুপের সদস্য আমিরুলও ওই মামলার আসামি।
মাগুরা ডিবির ওসি নাসির উদ্দিন জানান, ফারুক ও সোহেল নামে চিহ্নিত দুই মাদক ব্যবসায়ী বাজারে অবস্থান করছে এ খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। তাদের দেখে কেউ পানিতে লাফিয়ে পড়েছে কিনা সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। বাজারে থাকা অবস্থায় স্থানীয় লোকজন হঠাৎ করেই তাদের ওপর হামলা চালায় বলে তিনি জানান। হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রকৃত খবর জানার চেষ্টা করছি। তবে আমিরুলকে আটকের জন্য ডিবি পুলিশ সেখানে যায়নি। তাকে আটক করতে হলে থানা পুলিশ যাবে।’








