রাজশাহীতে অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠা খেজুর গাছ থেকে শুধু রস সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু এখন কিছুটা উঁচু জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাগানো হচ্ছে খেজুর গাছ। সেই গাছের রস থেকে উৎপাদন হচ্ছে গুড়। এবার শীত মৌসুমে রাজশাহীতে জমে উঠেছে খেজুর গুড়ের হাট। প্রশাসনের নজরদারির কারণে ভেজালমুক্ত গুড় উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম নিয়ে কিছুটা হতাশ চাষিরা। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিভিন্ন হাটে খেজুর গুড় কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকা দরে। তবে দাম ৮০-১০০ টাকা হলে লাভ হবে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় ৫৯২ হেক্টর জমিতে ৮ লাখ ৮৮ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। গাছপ্রতি গড় উৎপাদন ৭ দশমিক ৭ কেজি হিসাবে ধরলেও মোট গুড় উৎপাদন হবে ৬ হাজার ৮৩৫ টন। গড়ে কেজিপ্রতি গুড়ের দাম ৬০ টাকা ধরলেও এ মৌসুমে ৪১ কোটি টাকার গুড়ের বাণিজ্য হবে। এই পেশার সঙ্গে জেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জড়িত।
চারঘাট উপজেলার চাষি ইয়াকুব মণ্ডল বলেন, ‘বাড়িতে ৭০টি গাছ রয়েছে। সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় উৎপাদন হয়।’
দুর্গাপুর উপজেলার চাষি মোখলেসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পরিস্থিতি এমন করেছে যে চিনি না মেশালে তারা গুড় নিতে চান না। চিনি মেশালে উজ্জ্বল দেখায়, তখন দাম ভালো পাওয়া যায়।’
পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকার চাষি তৌফিক এলাহী বলেন, ‘এবছর প্রশাসনের ব্যাপক নজরদারি ছিল। ফলে ভেজাল গুড় উৎপাদন হচ্ছে না। কিন্তু দাম কিছুটা কম।’
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, চলতি শীত মৌসুমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেজাল গুড় তৈরি না করার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এরপরও কিছু ব্যক্তি অধিক মুনাফার জন্য খেজুর রসের সঙ্গে চিনি, আটা, হাইড্রোস, ফিটকিরি, সোডা, চুন, নারিকেলের তেল, রং মিশিয়ে গুড় তৈরি করে। তাদের ধরতে পারলে হাতেনাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা থেকে রাজশাহীতে গুড় কিনতে এসেছেন রুবেল আহসান। তিনি জানান, তিন মাস পুঠিয়ার শিবপুরে থেকে গুড়ের ব্যবসা করছেন। গুড় কিনে ঢাকার বিভিন্ন মোকামে পাঠান। এছাড়া জানুয়ারি মাসে একটি লট যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত ও আবুধাবিতে পাঠিয়েছেন। তিনি প্রতি হাটে ৪ থেকে ৫ টন খেজুর গুড় ক্রয় করেন। সেগুলো প্যাকিং করে ঢাকায় পাঠান।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, ‘জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গুড় বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে। আমরা বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহ দিচ্ছি। এখন রাজশাহীর গুড় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকায় রফতানি হচ্ছে। এতে করে এই এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।’








