কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পৌর মেয়রসহ ইউপি চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত

পাবনা প্রতিনিধি
২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:২৭আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৪১

কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পৌর মেয়রসহ ইউপি চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত পাবনায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ বর্ধিত সভায় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়রসহ এক ইউপি চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ সময় অনুষ্ঠান মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নে বিরাহীমপুরে এ ঘটনা ঘটে।

সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শওকত আলী জানান, শনিবার রাতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আহম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিরাহীমপুর মীর্জা আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ধিত সভা হয়। সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আব্দুল ওহাব বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি ঘোষণা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই কমিটিতে কেবল তার পছন্দের নেতাকর্মীদের নাম থাকায় উপস্থিত অন্য ত্যাগী নেতাকর্মীরা আপত্তি করেন এবং সমন্বয়ের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের দাবি জানান। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব অন্য নেতাকর্মীদের দাবি না মেনে ওই কমিটিই চূড়ান্ত এবং কতিপয় নেতাকর্মীকে গালিগালাজ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মঞ্চে ওঠে তাকে কিল-ঘুষি মেরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

আহম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন সভাপতি ওহাবের পক্ষ নিলে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা তাকেও বেদম মারধর করে এবং সভা মঞ্চ ভাঙচুর করে। পরে সভার প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির এবং পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ওহাব সভাস্থল ত্যাগ করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমি ওই সভায় উপস্থিত ছিলাম না। তবে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে যেটুকু শুনেছি তাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দায়িত্বশীল আচরণ করেননি। কারণ বঙ্গবন্ধু শুধু একক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেতা নয়, বঙ্গবন্ধু ১৬ কোটি বাঙালির নেতা তথা বিশ্ববরেণ্য নেতা। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের অংশীদার আওয়ামী লীগের যেকোনও স্তরের নেতাকর্মীর পাশাপাশি একজন সাধারণ নাগরিকও হতে পারেন। কাজেই সভাপতির উচিত ছিল সবার সঙ্গে আলোচনা করে সার্বজনীন একটি কমিটি ঘোষণা করা।’

আমিনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল হক পিপিএম বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা আমাদের কাম্য নয়। আমরা চাই সব ধরনের সভা-সমাবেশ যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আইনের পরিপন্থী কোনও ঘটনা যেন না ঘটে।’

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবিরের মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত নেতাকর্মী মঞ্চে চেয়ার ছুড়ে মারেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে আসে এবং কমিটি গঠন স্থগিত হয়ে যায়।’

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী