নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার লক্ষণহাটী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আব্দুস সামাদ। বাস্তবে জীবিত হলেও সরকারি খাতায় পাঁচ বছর ধরে মৃত তিনি। দিতে পারেননি দুটি নির্বাচনে ভোট। বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদন আর জনপ্রতিনিধিদের জানানোর পরেও কাজ হয়নি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত মৃতই আব্দুস সামাদ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকালে শত শত মানুষ স্মার্টকার্ড পেলেও দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয় তাকে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আব্দুস সামাদ।
আব্দুস সামাদ বলেন, ‘২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র পাই। ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারি সরকারি তালিকায় আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এ কারণে ভোট দিতে পারিনি পরের নির্বাচনেও। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় আবেদন করেছি।’
আব্দুস সামাদের ছেলে ফজলুর রহমান বলেন, ‘সচেতন নাগরিক হিসেবে গত দুটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বাবা। এলাকার মানুষ স্মার্টকার্ড পেলেও তিনি বঞ্চিত হলেন। সরকারি খাতায় মৃত হিসেবে নাম থাকায় নানা অসুবিধা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
বাগাতিপাড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আব্দুস সামাদ আমার ওয়ার্ডের ভোটার। প্রায় এক বছর আগে বিষয়টি জানার পর বহুভাবে চেষ্টা করেছি, কিন্তু আজও সমাধান হয়নি।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় তিন মাস আগে আব্দুস সামাদের লিখিত আবেদন পাওয়ার পর সেটি ঢাকায় পাঠিয়েছি। ঢাকা থেকে সংশোধনী এলে সামাদকে নিশ্চিত করতে পারবো।’








