পাবনা জেনারেল হাসপাতালের একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ আরও ৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো আট জনে। এর মধ্যে চাটমোহরে তিন জন, ভাঙ্গুড়ায় দুই জন ও পাবনা সদরে তিন জন। পাবনার সিভিল সার্জন ডাক্তার মেহেদী ইকবাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য জানান।
মেহেদী ইকবাল জানান, নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে পাবনা সদরের তিন জন, চাটমোহরের একজন ও ভাঙ্গুড়ার দুই জন রয়েছেন। এদের সবার নমুনা গত ২৩ এপ্রিল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার আবুল হোসেন জানান, একজন রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক (২৫) ও সিনিয়র স্টাফ নার্স (৩৫) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে ওই রোগী গত ২১ বা ২২ এপ্রিল পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। পরে তিনি ঢাকায় গিয়ে করোনা পরীক্ষা করার পর ফল পজিটিভ আসে। বিষয়টি জানার পর আমরা ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক ও সিনিয়র স্টাফ নার্সের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠায়, পরে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। চিকিৎসা নিতে আসা ওই রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করাসহ নমুনা পরীক্ষা করা হবে। আর আক্রান্ত অন্য একজন পাবনা পৌর এলাকার বাসিন্দা। তিনি কীভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এছাড়া চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শুয়াইবুর রহমান জানান, হাসপাতালের একজন স্বাস্থ্যকর্মী (এমটিইপিআই) করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তার বয়স ৫৩ বছর। তিনি করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সেখান থেকেই আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি হাসপাতালের কোয়ার্টারের মধ্যে থাকেন। যেহেতু করোনার নমুনা সংগ্রহ করতেন, এ কারণে সতর্কতা হিসেবে গত ২৩ এপ্রিল তার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল।
ডাক্তার শুয়াইবুর আরও জানান, করোনা আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে করোনার কোনও লক্ষণ নেই। তারপরও ফল যেহেতু পজিটিভ এসেছে, এ কারণে তাকে বাসায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তবে হাসপাতাল লকডাউন করার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এছাড়া তার সংস্পর্শে যারা চলাফেরা করেছেন, তাদের নমুনাও সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকারও নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় স্বামী-স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের বাড়ি উপজেলার মুণ্ডুতোষ ইউনিয়নের মল্লিকচক গ্রামে। তারা গাজীপুরে পোষাক কারখানায় কাজ করতেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হালিমা খাতুন জানান, গত ১৭ এপ্রিল বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই দম্পতি। এরপর ২৩ এপ্রিল ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পাঠান। পরে ফলাফলে তাদের করোনা পজিটিভ আসে। গাজীপুর থেকে আসার পর থেকে ওই দম্পতি হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার রাতেই আক্রান্ত এলাকা লকডাউন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাবনায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ১৬ এপ্রিল। ওই দিন জেলার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বামনগ্রামে নারায়ণগঞ্জ ফেরত এক পোশাককর্মীর (৩২) নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। এছাড়া গত ১৯ এপ্রিল চাটমোহর উপজেলায় হন্ডিয়াল ইউনিয়নের সোনাবাজু ভিটাপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তির (৪০) পরীক্ষায়ও করোনা ধরা পড়ে।








