বগুড়ার কাহালুতে নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদার ও তার ভাইয়ের হাতে আহত হয়েছেন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ও রোলার চালক মোফাজ্জল হোসেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে সাড়াই এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে গুরুতর আহত রোলার চালককে কাহালু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হলে পুলিশ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠিকাদার নুর ইসলাম বিশুকে (৪০) গ্রেফতার করেছে।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে পৌরসভার হলরুমে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা আগামী তিন দিনের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির জানিয়েছেন। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মামলা সূত্র ও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাহালু পৌরসভার অর্থায়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডে সারাই থেকে কাইট পর্যন্ত সড়কে কার্পেটিং কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবার বিকালে ঠিকাদার সিডিউল বহির্ভূত ও ইচ্ছামত কাজ করছিলেন। কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় ঠিকাদার নুর ইসলাম বিশু ও তার ভাই নুর আলম রুবেল উত্তেজিত হয়ে প্রকৌশলীকে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন। তখন পৌরসভার রোড রোলার চালক মোফাজ্জল হোসেন গালিগালাজ করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিশু ও রুবেল তাদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ও রোলার চালক মোফাজ্জলকে মারধর করেন। মোফাজ্জলকে গরম বিটুমিন মিশ্রিত পাথরের ওপর ফেলে দেন। এতে তার পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে কাহালু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। প্রকৌশলী রশিদ প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও রোলার চালক মোফাজ্জল চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে শুক্রবার সকালে পৌরসভার কর্মচারী আবদুর রাজ্জাক কাহালু থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ অন্যতম আসামি নুর ইসলাম বিশুকে গ্রেফতার করেছে।
এ হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে পৌরসভার হলরুমে পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপ-সহকারি প্রকৌশলী একলাস হোসেন, পৌর সচিব কার্তিক চন্দ্র দাস, সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি মামুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, কাহালু পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা হামলাকারীদের গ্রেফতারে প্রশাসনকে তিন দিনের আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কাহালু থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, মামলার পর কাহালু বাজার এলাকার ঠিকাদার জয়নাল আবেদীনের ছেলে অভিযুক্ত ঠিকাদার নুর ইসলাম বিশুকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসমিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
বিশুর পরিবারের পক্ষে মেহেদী হাসান রাজিব দাবি করেন, আগে মোফাজ্জল অন্যায়ভাবে বিশুকে মারেন। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে মারপিটের মত অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে।








