আতাইকুলা বধ্যভূমি: পাঁচ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ
০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:০০আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৩৩

আতাইকুলা বধ্যভূমি নওগাঁর রাণীনগরের আতাইকুলা গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী একমাত্র ও ঐতিহাসিক বধ্যভূমিটিতে আজও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ৫ বছর পার হলেও বাস্তবায়ন করা হয়নি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা। অথচ এই বধ্যভূমিতে শুয়ে আছেন ৫২ জন শহীদ।

শহীদ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ‌্যোগে কোনও রকমে ইটের প্রাচীর দিয়ে বধ্যভূমিটি ঘিরে রেখেছেন মাত্র। কিন্তু এটি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে আগামী প্রজন্মের কাছে নতুন করে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনার দ্রুত বাস্তবায়ন চান শহীদ পরিবার ও স্থানীয়রা।

নারকীয় ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েও বেঁচে যাওয়া আতাইকুলা গ্রামের প্রদ্যুত চন্দ্র পাল, সাধন চন্দ্র পাল ও নিখিল চন্দ্র পাল ওই দিনের করুণ হত্যাযজ্ঞের কাহিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে বর্ণনা করেন, ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল রোজ রবিবার সকাল ১০টায় ছোট যমুনা নদী পার হয়ে আসে একদল হানাদার বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধারা এই গ্রামে আছে বলে তারা সন্দেহ করে প্রথমে গ্রামটিকে ঘিরে ফেলে। এরপর প্রতিটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা স্বর্ণালংকাসহ বাড়ির নারী-পুরুষকে ধরে নিয়ে ওই গ্রামের বলরাম চন্দ্রের বাড়ির উঠানে নিয়ে যায়। সেখানে পুরুষদের উঠানে সারিবদ্ধ করে দাঁড় করিয়ে রাখে আর উঠানের পাশেই একটি ঘরে রাখে নারীদের। একের পর এক নারীদের ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। পরে সারিবদ্ধ পুরুষদের ওপর চলে ব্রাশ ফায়ার। মুহূর্তের মধ্যেই ওই গ্রামের ৫২ জন শহীদ হন। পরে হানাদাররা বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়।

আতাইকুলা বধ্যভূমির নামফলক শহীদদের মধ্য থেকে গুলিবিদ্ধ হয়েও কোনও রকমে বেঁচে যায় প্রদ্যুত পাল, সাধন পাল ও নিখিল পাল। প্রদ্যুত পাল জানান, ওই দিন তার বাবা, চাচা, জ্যাঠা এবং গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তাকেও সারিবদ্ধ করে চালায় ব্রাশ ফায়ার। হানাদার বাহিনী চলে যাওয়ার পর রক্তাক্ত ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লাশের মধ্য থেকে কোনও রকমে বেঁচে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি তার বাড়িতে ফিরে যান।
সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন মনোয়ারা হক ১৯৯৬ সালে নিজ উদ্যোগে কিছু অনুদান দিয়ে কোনও রকমে ফলকে শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করার কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর এখানে আর কোনও কাজ হয়নি। তাই বধ্যভূমিটি পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়।
আতাইকুলা বধ্যভূমি: পাঁচ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা শহীদ গোবিন্দ চরণ পালের ছেলে গৌতম পাল বলেন, অনেক চেষ্টার পর ২০১৫ সালে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ৫২ জন শহীদের আত্মদান স্মরণে বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ, শহীদদের নাম সরকারি গেজেট অন্তর্ভুক্তি, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ, শহীদদের অসহায় পরিবারকে মূল্যায়ন ও আর্থিক সাহায্য প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কোনও পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আমরা ইতোমধ্যেই ৮ শতাংশ জমি বধ্যভূমিকে দান করেছি। আশা রাখি দ্রুতই বধ্যভূমির সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগকে জমি অধিগ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

/আরআইজে/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে