বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পদ্মপুকুর বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এলেও দু’বছরে কাজ শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে কাজ শুরুর অনুরোধ জানিয়েছে।
১৯৭১ সালের আশ্বিন মাসের শুরুতে দুপচাঁচিয়ার তালোড়ায় হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প থেকে অজ্ঞাত দুই বাঙালিতে হাত ও চোখ বেঁধে আলোহালী গ্রামের পদ্মপুকুর পাড়ে আনা হয়। সেখানে তাদের গুলি করে হত্যার পর লাশ দুটি পুঁতে রাখা হলেও মাথা ও পা বাইরে ছিল। পরদিন সকালে গ্রামবাসী রাজাকার ও আর্মিদের ভয়ে তড়িঘড়ি করে লাশ মাটিচাপা দেন। চারদিন পর সন্ধ্যায় পাকিস্তানি সেনারা আরও চার জনের হাত ও চোখ বেঁধে সেখানে নিয়ে আসে। ব্রাশ ফায়ারে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দেয়। পরদিন গ্রামবাসীরা পুকুর থেকে চারটি লাশ উদ্ধার করে পুকুরের পূর্ব পাড়ে মাটি চাপা দেন।
এ প্রসঙ্গে শহীদ চার জনের একজন রবিয়া মন্ডলের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজেদুর রহমান মোজাফফর রহমান জানান, তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের স্থানীয় দোসর রাজাকার-আলবদরদের সঙ্গে নিয়ে এবং শান্তি কমিটির সহায়তায় তাদের বাড়িঘর ঘেরাও করে। এরপর তার বাবা, ভাইসহ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে পদ্মপুকুর পাড়ে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
একই ধরনের কথা বলেন উনাহত সিংড়া গ্রামের শহীদ তছলিম উদ্দিনের ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিন। তিনি জানান, শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি চেয়ে বিভিন্ন সময় সরকারের কাছে আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছেন।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান মুকুল, সুজ্জাত আলী প্রমুখ জানান, পদ্মপুকুর পাড়ে গণকবরগুলো সংস্কার ও সেখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রয়োজন। সংস্কারের অভাবে স্মৃতিফলকটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। তারা মহান বিজয়ের মাসেই গণকবরগুলো সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
আলোহালী গ্রামের পদ্মপুকুর পাড়ে ছয় বীর বাঙালির স্মৃতি রক্ষার্থে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। দু’বছর আগে টাকা এলেও আজ পর্যন্ত স্মৃতিসৌধ নির্মাণ হয়নি।
বগুড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার (দপ্তর) বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজ্জাত আলী, দুপচাঁচিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবার রহমান তালুকদার মুকুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম সরকার, সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা বেলাল হোসেন প্রমুখ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণে দু’বছর আগে মন্ত্রণালয় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও আজ পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। তারা এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন জানান, তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুস্থ হওয়ার পর অফিসে গিয়ে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেবেন।







