স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গণধোলাই

বগুড়া প্রতিনিধি
১১ মার্চ ২০২১, ২১:৫৩আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ২২:০০

বগুড়ার ধুনটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সেলিম রেজার (৩০) বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে তাকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে গণধোলাই দিয়েছেন স্থানীয়রা। বুধবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের কোনাগাঁতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করেছে।

সেলিম রেজা ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের মহিশুরা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত সানোয়ার হোসেন টুনুর ছেলে। তিনি গোপালনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জানিয়েছেন, টাকা পেলেই কাউকে বেঁধে রেখে মারপিট করার অধিকার কারও নেই। রেজা বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৭ সালের কোনাগাঁতি গ্রামের দরিদ্র কৃষক জসিম উদ্দিনের ছেলে শামীম রেজাকে কোনাগাঁতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলেন সেলিম রেজা। এ জন্য তার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেন। সেলিম রেজা ওই পদে চাকরি দেওয়ার নামে আরও চার জনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। পরে পাঁচ জনের মধ্যে একজনকে বেশি টাকার বিনিময়ে চাকরি দেন। সেলিম রেজা টাকাগুলো উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকনের নাম করে নেন। আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাই খোকনের বিরুদ্ধে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি নিয়োগের নামে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। গত ৪ মার্চ শামীম রেজার বড় ভাই আবদুল হাই ধুনট থানায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাই খোকন ও সেলিম রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। প্রতারণার শিকারদের পক্ষে থানায় পাঁচটি অভিযোগ দেওয়া হয়; পুলিশ সেসব রেকর্ড করেনি। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে সেলিম রেজা বাদীর পরিবারকে হুমকি ও ভয় দেখিয়ে আসছেন।

এদিকে ১০ মার্চ বুধবার সন্ধ্যার দিকে সেলিম রেজা ও তার লোকজন কোনাগাঁতি গ্রামে প্রতারণার শিকার শামীম রেজার ভাই আবদুল হাইকে একা পেয়ে মারধর করেন।

এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ  প্রত্যাহার করতে চাপ দেন। রাজি না

হলে সেলিম রেজা ও তার লোকজন চাকরি প্রার্থী শামীম রেজা ও তার ভাই আবদুল হাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। টের পেয়ে গ্রামবাসী ধাওয়া করে সেলিম রেজাকে আটক করেন। এরপর তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে মারপিট করেন। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ জনরোষ থেকে বাঁচাতে সেলিম রেজাকে থানায় নিয়ে আসেন। রাতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা  সেলিম রেজা জানান, তিনি চাকরি দেওয়ার নামে কিছু টাকা নিয়েছিলেন। কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে; অবশিষ্ট টাকার ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শামীম রেজা ও তার ভাই আবদুল হাই তাকে তুলে নিয়ে বেঁধে রেখে মারপিট করেছেন।

ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, চাকরি প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকনকে টাকা দেওয়ার সময় সেখানে সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। এ কারণে জনগণ সন্দেহমূলকভাবে তাকে আটক করে বেঁধে রেখে মারপিট করেছেন। সেলিম রেজাকে উদ্ধারের পর তিনি মারপিটকারী ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি