বিলীন হতে পারে তিন প্রাথমিক শিক্ষার বাতিঘর

আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ
১৩ মার্চ ২০২১, ১৩:০১আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২১, ১৩:০১

ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীবেষ্টিত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৩টি ঐতিহ্যবাহী প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী ভাঙনে বিলীনের পথে। বিদ্যালয় তিনটি হলো উপজেলার আটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গুড়নই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যদি এই শুকনো মৌসুমে বিদ্যাপীঠগুলো রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে আগামী বর্ষামৌসুমে নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে জানা যায়, ১৭৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত আটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে গেছে এক সময়ের খরস্রোতা ছোট যমুনা নদী। বছরের পর বছর নদী ভাঙনে বিদ্যাপীঠটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পথে। কয়েকটি গাছ বিদ্যালয়টিকে পুরোপুরি বিলীনের হাত থেকে রক্ষা করে আসছে। এছাড়াও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী মিলে বিদ্যালয়টি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সীমিত অর্থ দিয়ে একটি সুরক্ষাপ্রাচীর তৈরি করেছে। কিন্তু এখনই পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এতেও আর রক্ষা পাবে না। নদী ও বিলবেষ্টিত কয়েকটি গ্রামের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের এটিই একমাত্র বিদ্যাপিঠ। এছাড়াও নদীর পাশ দিয়ে কোনও নিরাপত্তাবেষ্টনি না থাকায় খেলার সময় শিশুরা নদীতে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। শুকনো মৌসুমেই বিদ্যালয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আগামী বর্ষা মৌসুমে বিদ্যাপীঠটি কোমল মতি শিশুদের জন্য একটি মরণ ফাঁদে পরিণত হতে পারে। এছাড়াও উপজেলার বাউল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গুড়নই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা।

আটগ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই শুকনো মৌসুমে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করে বিদ্যালয় সংলগ্ন নদীর ভাঙন অংশ নির্মাণ করতে হবে। প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার কোমলমতি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের বিদ্যাপীঠ রক্ষা করাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য অতি দ্রুত সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

আটগ্রাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুকুল উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যাপীঠটি বিলীন হয়ে গেলে এই অঞ্চলের শিশুরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। আমি এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও লাভ হয়নি। তাই আমরা সবাই এ নিয়ে হতাশায় আছি।’

বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয় ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কয়েক বছর আগে একটি নামমাত্র সুরক্ষাপ্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি নদীর পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। এখানে বড়ধরনের অর্থ বরাদ্দ ও সুপরিকল্পনা মাফিক প্রকল্প প্রয়োজন। তা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে বিদ্যাপীঠটি নদীনর্ভে হারিয়ে যাবে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দীক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘ইতোমধ্যেই নদীভাঙনে বিলীনের পথে আটগ্রাম, বাউল্লাপাড়া ও গুড়নই বিদ্যালয় আমরা পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে আমাদের মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত বিষয়গুলো দেখভাল করে, কিন্তু নদীর তীর সংক্রান্ত বিষয়গুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায়। তবে আমরা সমন্বয় করে কাজ করছি।’

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান খাঁন বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা আটগ্রাম বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে একটি চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠিয়েছি। অর্থ বরাদ্দ ও পরবর্তী নিদের্শনা পেলেই কাজ শুরু করবো।’ 

 

/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম