রাজশাহী মহানগরীর পদ্মপাড়ে অবস্থিত সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ‘বড়কুঠি’র সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বড়কুঠি‘র সংস্কার ও সংরক্ষণ করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। কাজের উদ্বোধন শেষে ডাচদের নির্মিত এই কুঠিবাড়িটি ঘুরে দেখেন মেয়র। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উদ্বোধনের পর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মেয়র। এসময় তিনি প্রত্যাশা করেন ডাচদের বানানো ভবনটি আবার ফিরবে আসল চেহারায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন বড়কুঠি। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বাংলায় এসে ডাচরা রাজশাহীর পদ্মার তীরে এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বড়কুঠি ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ছিল। বড়কুঠিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে আমি প্রথমবার মেয়র থাকাকালে (২০০৯-২০১৩) প্রাণপণে চেষ্টা করেছিলাম, তৎকালীন রাবি উপাচার্যকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে এটির সংস্কারের জন্য। কিন্তু সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক সাড়া দেননি। আজকে অনেক পরে হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর বড়কুঠির সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ শুরু করতে পেরেছে।
মেয়র লিটন আরও বলেন, পদ্মাপাড়ে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত বড়কুঠি পর্যটকদের আকর্ষণ করবে। বড়কুঠি বিশ্বের মধ্যে আইকনিক সিম্বল হতে পারে। এছাড়া রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি, বাগমারা তাহেরপুরে কংস নারায়ণের রাজবাড়ীতে অবস্থিত মন্দিরসহ অন্যান্য প্রাচীন স্থাপনাকে ভালোভাবে সংরক্ষণ করে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব হলে দেশ-বিদেশি পর্যটকরা আকৃষ্ট হবেন। পর্যটকদের আগমনে রাজশাহী সমৃদ্ধ হবে। আগামীতে পর্যটন খাত বাংলাদেশের অন্যতম একটি আয়ের খাতে পরিণত হবে। পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার যথেষ্ট যত্নশীল।
সভায় বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, রাসিক মেয়রের একক প্রচেষ্টা ও ইচ্ছেয় অবশেষে বড়কুটি সংরক্ষিত পুরার্কীতি হিসেবে সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ শুরু করা হলো। এজন্য মেয়রকে ধন্যবাদ জানাই। রাজশাহীর পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে আজকের দিন মাইলফলক।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে মে মাসে বড়কুঠিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। বড়কুঠির সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ কোভিড-১৯ এর কারণে শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হলো। প্রথম পর্যায়ে ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকার সংস্কার কাজ শুরু হলো। ইতোমধ্যে বড়কুটি’কে একটি প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, সেই প্রকল্প থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া যাবে। সেই প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে সংস্কার, সংরক্ষণ ও জাদুঘর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার ও সংরক্ষণের পর বড়কুঠিকে জাদুঘরে পরিণত করা হবে। যেহেতু এটি ডাচরা নির্মাণ করেছিলেন, তাই জাদুঘরটিতে ডাচদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, ছবি ও পেইন্টিং ও বড়কুটি নির্মাণের ইতিহাসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমৃদ্ধ করা হবে। কাজ শেষে জাদুঘরটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ডাচদের ব্যবহৃত কোনও জিনিসপত্র, তথ্য-উপাত্ত যদি কারও কাছে থেকে থাকে তাহলে আমাদের প্রদানের অনুরোধ করছি।








