রাজশাহীর চারঘাটে মাছ চুরির অভিযোগে এক শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম জহুরুল ইসলাম জহির। অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা সদস্যকে শুক্রবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার মেরামতপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তুষার (১৩) নামের এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরের দিকে উপজেলার মেরামতপুর গ্রামে শিশুটি তার বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিবেশী জহিরের পুকুরে গোসল করতে নামে। এসময় পুকুরের মালিক ওই শিশুদের মাছ চুরির অভিযোগ তুলে ধাওয়া করে। ভয়ে বাকি শিশুরা পালিয়ে গেলেও তুষারকে ধরে পুকুর পাড়ে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধেন তিনি। এরপর লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করেন। পরে সংবাদ পেয়ে তুষারের আত্মীয় স্বজনসহ প্রতিবেশীরা গিয়ে আহত তুষারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় আহত শিশুটির বাবা ছহির উদ্দিন বাদী হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় চারঘাট মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মেরামতপুর নিজ বাড়ি থেকে জহির উদ্দিনকে আটক করে।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, থানায় দায়ের করা মামলায় ওই কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া নির্যাতনের ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ করায় একই মামলায় জহিরুলের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গ্রেফতারের আগে চারঘাট উপজেলার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জহিরুল ইসলাম বলেছিলেন, মাঝে মাঝেই আমার পুকুর থেকে মাছ চুরি হয়ে যাচ্ছে। দুপুরে ওই ছেলেসহ আরও কয়েকজন মাছ চুরি করছিল। তখন ছেলেটিকে হাতেনাতে ধরতে পেরেছি। পরবর্তীতে যেন আরও বড় অপরাধ না করে সে জন্য তাকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। কিশোরের ছবি ইন্টারনেটে ছাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, সবাইকে সচেতন করতে ছবি ফেসবুকে শেয়ার করা হয়েছে।








