রঙ মাখা মুখে কষ্ট লুকান বাবু গায়েন

আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ
০৭ জুন ২০২১, ১৮:২৭আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ১৮:২৭

গায়ে লাল পাঞ্জাবি আর মুখে বাহারি রঙ মেখে প্রতিদিনই বাড়ি থেকে বের হন বাবুল হোসেন ওরফে বাবু গায়েন। জীবিকার তাগিদে ছুটে চলেন জেলার বিভিন্ন পথে প্রান্তরে। গান শুনিয়ে, মানুষকে খুশি করে পাওয়া অর্থেেই চলে তার সংসার। গান শোনানোর সময় বাহারি সাজের এ মানুষটির চোখে-মুখে আনন্দ থাকলেও, বুকের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক সাগর কষ্ট।

নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবুল হোসেন বাবু। পৃথিবীতে আপন বলতে জন্মদাতা মা ও তিন মেয়ে ছাড়া তার আর কেউ নেই। স্ত্রীকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। সংসার চলাতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে গান আর গল্প শোনান তিনি। বাহারি পোশাকের এ মানুষটি হারমোনিয়াম কাঁধে নিয়ে জীবিকার তাগিদে ছুটে বেড়ান পুরো জেলা জুড়ে।

বাবু গায়েন বলেন, অকালে স্ত্রীকে হারানোর বেদনা অন্যদিকে সংসারে অভাব, সবমিলে নিজের বুকে হাজারও কষ্ট চেপে রেখে অন্যদের গান শুনিয়ে আনন্দ দিচ্ছি। এভাবে প্রায় এক যুগ ধরে করে গান গেয়ে মানুষকে খুশি করার কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আগে গ্রামে গ্রামে যাত্রাপালায় অভিনয় করতাম। এখন আর যাত্রাপালার দিন নাই। তাই ১২ বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় গান করে বেড়াই। বয়সের কারণে কাজ করতে পারি না। এজন্য কেউ কাজে নেয় না।

বাবু বলেন, ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছি। স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। সেই ছোট থেকেই সংসার আমাকে চালাতে হয়েছে। আমার তিনটি মেয়ে আছে। কী কপাল আমার! বড় মেয়ে ৫ বছর, মেঝো মেয়ে ৩ বছর আর ছোট মেয়ের বয়স যখন ৬ মাস তখন আমার স্ত্রী মারা যায়। খুব কষ্টে আমি আর আমার মা মিলে মেয়েদের বড় করেছি। প্রতিদিন গান করে যে টাকা উপার্জন হয় দিন শেষে সেই টাকায় খাবার কিনে বাড়িতে যেতাম। যেদিন টাকা কম উপার্জন হতো সেদিন আর বাজার করতে পারতাম না। গান করে যে টাকা উপার্জন হয় তা থেকে একটু একটু করে কিছু টাকা জমিয়ে বড় দুটি মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। এখন আর একটি
মেয়ে আছে, ১২ বছর বয়স তার।

গান গাওয়ার টাকায় কোনো রকমে সংসার চলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বগুড়ার সান্তাহার, নওগাঁ, নাটোর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, রাজশাহী, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে গান করি। মানুষ আমার গান শুনে যে টাকা দেয় তাতেই আমার সংসার চলে। প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। আবার কোনও দিন ২০০ টাকাও উপার্জন হয়। দুই মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সময় লোন নিয়েছিলাম। এখন প্রতিমাসে তার কিস্তি দিতে হয়। সংসারের অভাবের কারণে আমি পড়ালেখা করতে পারিনি। আমার মেয়েদেরও পড়ালেখা করাতে পারিনি।

বাবু গায়েনের গান শুনে মুগ্ধ হয় বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। খুশি হয়ে যে যেমন পারে টাকা দেয়। আর এভাবেই চলছে একজন বাবু গায়েনের জীবন সংগ্রাম।

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি
চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের