বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩৮ জনের। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৩৭ জনে। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এসব তথ্য জানান।
মৃতরা হলেন—বগুড়া শিবগঞ্জের দুলাল মিয়া (৮৫) ও আজাহার আলী (৫০), গাইবান্ধার রেহেনা বেওয়া (৯০), নওগাঁর মুসলেমা খাতুন (৪০) ও রহমান সরকার (৬৩), জয়পুরহাটের মোর্শেদা (৪০), তবির উদ্দিন (৬৮) ও বাবু মিয়া (৩৫)।
তাদের মধ্যে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে তিন জন, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে তিন জন, টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে এক জন মারা গেছেন। আজাহার আলী মারা গেছেন নিজ বাড়িতে।
বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৩৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।তাদের মধ্যে পিসিআর ল্যাবে ২৮৮ জনের নমুনায় ৬৬ জন, জিন এক্সপার্ট মেশিনে চার জনের নমুনায় তিন জন এবং অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ২৫৯টি নমুনায় ৬০ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে।
এছাড়া ঢাকায় পাঠানো ২১৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ৪৮টি নমুনা পরীক্ষায় ১৬ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্তদের মধ্যে বগুড়া সদরে ১৭৭ জন, শেরপুরে ১১ জন, দুপচাঁচিয়ায় নয় জন, গাবতলীতে সাত জন, কাহালুতে সাত জন, আদমদীঘিতে সাত জন, সারিয়াকান্দিতে ছয় জন, ধুনটে ছয় জন, সোনাতলায় তিন জন, শাজাহানপুরে তিন জন এবং শিবগঞ্জে দুই জন।
এদিকে ২৪ ঘণ্টায় মৃত আট জনের মধ্যে বগুড়ায় দুই জন এবং অন্যরা গাইবান্ধা, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের। আক্রান্তের হার ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৮৮ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট ১৪ হাজার ৯৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৮৩ জন। করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩৭ জনে। বর্তমানে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক হাজার ৪১৩ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বগুড়ার তিনটি হাসপাতালে করোনা উপসর্গে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আট জন, শজিমেক হাসপাতালে দুই জন ও টিএমএসএস মেডিক্যালে একজন।
তবে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি করোনায় মৃতের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। মৃত ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানানো হবে।









