বগুড়ায় গত বছরের মতো এ বছরেও আলুর ভালো ফলন হয়েছে। আগামজাতের আলু বিক্রি হচ্ছে বাজারে। আশানুরূপ দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে আলু চাষিদের মুখে। আবহাওয়া এখনও অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। এ আশায় কৃষকেরা আলুক্ষেত সঠিকভাবে পরিচর্যা করছেন।
বগুড়া কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতরের সূত্র জানায়, বগুরা জেলায় গত মৌসুমে মোট ৬১ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিলো। ফলন পাওয়া গিয়েছিলো ১১ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। জেলায় গত বছর রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়েছিলো। সে ধারাবাহিকতায় চলতি বছরেও ভাল ফলন পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় আলুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ হাজার হেক্টর জমি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন আলু। বগুড়ায় শীতের আগেই সদর উপজেলায় আগামজাতের আলুর আবাদ হয়ে থাকে। তবে মৌসুমি আলুর চাষবাদের পর জানুয়ারির শেষে এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতে আলুর ফলন তোলা হয়। পাকরি, ফাঁটা পাকরি, দেশি হাগরাই, ললিতা, কার্ডিনাল, ডায়মন্ডসহ বিভিন্ন জাতের আলু আবাদ করা হচ্ছে।
বগুড়া সদরের শাখারিয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, ধান কাটার পর আগামজাতের আলু আবাদ শেষে বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। নতুন আলু ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে সেই আলু খোলা বাজারে ৩০ টাকা এবং পাইকারি বাজারে আলু ২০ থেকে ২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর এমন দাম থাকায় চাষিরা এবার আলুর ভালো দাম পাবে।
আদমদীঘি উপজেলা সদরের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর ওই জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া এখনও অনুকূলে রয়েছে। এমন অবস্থা থাকলে আলুর বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। আর ফলন ভালো হলে এবং ন্যায্যমূল্য পেলে ভালো লাভ করা যাবে।
আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামান জানান, গত বছর এ উপজেলায় আলুর ভালো ফলন পাওয়া গেছে। এবার এ উপজেলায় ৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ বছরও আলুর ভালো ফলন পাওয়া যাবে। আলুসহ সকল প্রকার রবিশষ্য আবাদের প্রথম থেকে কৃষককে যাবতীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক মুক্তার হোসেন জানান, মৌসুমি আলুর ক্ষেতে এখন পরিচর্যা চলছে। আগাম জাতের আলু বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি বিঘা আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ হবে আরও ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে ৭০ থেকে ৮০ মণ আলু পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে মান অনুযায়ী আলুর প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা।
বগুড়ার কাহালু কৃষক আব্দুল বাছেদ জানান, ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে সবমিলিয়ে ১৫ হাজার টাকা। ফলন তুলতে আরও প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ হবে। ফলন পাওয়া যেতে পারে বিঘায় ৭০ মণ। বর্তমানে বাজারে পাইকারি প্রতিমণ আলু বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা করে। আলু উত্তোলনের সময় ফেব্রুয়ারি মাসে যদি ৭০০ টাকা মণও বিক্রি হয় তাহলে প্রতি বিঘা আলু বিক্রি হবে ৪৯ হাজার টাকার।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণের কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে জেলার গাবতলী উপজেলা, শিবগঞ্জ ও সদরে আগাম জাতের আলু আবাদ হয়েছে। আগামজাতের আবাদ করা আলু দিয়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চণ্ডী দাস কুণ্ডু জানান, আলু চাষিদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সার ও বীজ রয়েছে। উন্নতমানের বীজের পাশাপাশি সারের কোনও সমস্যা হবে না। কৃষি কর্মকর্তারা আলু চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভাল বীজ ও সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
/এআর/টিএন/আপ-এআর/








