গ্রিন, ক্লিন ও হেলদি সিটি রাজশাহীর সৌন্দর্যের অন্যতম অনুষঙ্গ পাখি। সবুজ ও নান্দনিক এ নগরীতে হাজারো পাখির বসবাস। তবে নগরায়ণের সঙ্গে একরকম যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকতে হচ্ছে পাখিদের। অনেক সময় গাছের সঙ্গে চলে পাখি নিধনের উৎসব। এবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল চত্বরে এমন ঘটনায় প্রাণ গেলো শতাধিক শামুখখোল পাখির। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ও পাখি প্রেমিকরা।
শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে হাসপাতাল চত্বরের গাছ কাটা হলে মাটিতে আছড়ে পড়ে শাবকসহ শতাধিক পাখি মারা যায়। এসময় বেশ কয়েকজন কিছু বড় পাখি নিয়ে পালিয়ে যান। এছাড়া হাসপাতালের নির্মাণ শ্রমিকরাও জবাই করেছেন ২০ থেকে ২৫ টি শামুখখোল পাখি। এসময় ৩০ টির বেশি বাচ্চা শামুখখোলের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকরা ড্রেনের নির্মাণ কাজ করছিল। সঙ্গে গাছ কাটাও চলছিল। এক সময় গাছ পড়ে গেলে এতে বাসা বাঁধা পাখিগুলোও আছড়ে পড়ে।
ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বলে মন্তব্য করেছেন পাখি প্রেমিকরা। যাদের অবহেলায় এমন ঘটনা ঘটছে, তাদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।
রাজশাহী বার্ডস ক্লাবের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে নগরায়ণের ফলে পাখিদের আবাসন নষ্ট হচ্ছে। এরইমধ্যে গাছ ও ডালপালা কেটে ফেলায় মাঝে মধ্যেই পাখিগুলো আশ্রয়হীন পড়ে। এবং রাজশাহী মেডিক্যালে এর আগেও পাখি তাড়াতে গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। তবে বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাখিদের বিষয়ে মানবিক। কিন্তু এখানকার উন্নয়ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদাররা বরাবরই বেশি গাছ কাটেন। পাখিদের আবাস নষ্ট করেন। এবারও তাদের অবহেলায় যে ঘটনাটি ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক ও মার্মান্তিক। এমন ঘটনার পুনারাবৃত্তি রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, হাসপাতালের কয়েকটি শুকনো গাছে কাটতে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। সেখানে পাখিদের কোনও বাসা নেই। তবে ২০টির মতো পাখির মারা যাওয়ার কথা শুনেছি। ঘটনার পর আনসার পাঠিয়েছিলাম। তবে পরে কী হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান হাসপাতাল পরিচালক।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের পাখি হত্যার কোনও সুযোগ নেই। যারা পাখি হত্যার চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী বণ্যপ্রাণি সংরক্ষণ অধিদফতরের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর বারি বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। যে ভিডিও দেখেছি তাতে গা শিউরে ওঠে। এর আগে পাখি ও গাছ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ পাখিদের কোনও ক্ষতি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সেখানেই এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টির অনেক গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।









