৫০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েও নুরে আলম (৩০) নামের এক মোটরসাইকেল মেকানিককে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানার ওসি হাসান আলীর বিরুদ্ধে। চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে ডিআইজির কাছে নালিশ করায় বালু ব্যবসায়ীকে দিয়ে নুরে আলম বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে হাজতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নুরে আলমের স্ত্রী রাজিয়া বেগম বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ওসি হাসানের অপরাধের শাস্তি ও তার স্বামী সুষ্ঠু বিচার না পেলে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে দুই শিশু সন্তানকে বিষপানে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করবেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ষড়যন্ত্রমূলক। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য করা হয়েছে।’
লিখিত বক্তব্যে রাজিয়া বেগম জানান, তার স্বামী নূরে আলম দুপচাঁচিয়া বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করে সংসার পরিচালনা করে আসছেন। তিনি অত্যন্ত সহজ সরল ও নিরীহ প্রকৃতির। গত ২৯ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে দুপচাঁচিয়া থানার এসআই মোসাদ্দেক দোকানে এসে মামলা থাকার কথা বলে নূরে আলমকে থানায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে ওসি হাসান আলী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় হত্যা, মাদক, চোরাকারবারিসহ বিভিন্ন মামলায় আদালতে চালান দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে খবর পেয়ে রাজিয়া থানায় গিয়ে ওসিকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনেন। পরে এ ঘটনায় নূরে আলম পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের জিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগ করার পর থেকে ওসি হাসান আলী, স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী প্রভাবশালী আমিনুল ইসলাম বুলুসহ বেশ কয়েকজন তার পরিবারের ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসছেন। বুলু ১৬ অক্টোবর থানায় নূরে আলম ও তার ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মিনিবাস ভাঙচুরের মামলা করেন। গত ১৯ অক্টোবর আদালতে জামিন নিতে যান ভুক্তভোগী। আদালত কয়েকজনকে জামিন দিলেও নূরে আলমসহ তিন জনকে কারাগারে পাঠান। এদিকে ওসি হাসান আলী ওইদিন নূরে আলম ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করেন। এজাহারে ধর্ষণের তারিখ দেখানো হয়েছে ১২ অক্টোবর।
এ নারী আরও বলেন, ‘স্বামী ও তার ভাইয়েরা জেলে থাকায় বাড়িতে শুধু শিশু ও নারীরা রয়েছেন। কিন্তু ওসি হাসান আলীর লেলিয়ে দেওয়া লোকজন নানাভাবে অত্যাচার ও হয়রানি করে আসছেন। এমনকি শিশু ছেলেকে ট্রাকের নিচে পিষিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। তাদের হুমকির মুখে ১০ বছরের শিশুর মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে ওই নারীর চাচা শ্বশুর বেলাল হোসেন, ফিরোজ, রনি সরদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।









