ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কানাপাড়া জোবেদা ডিগ্রি কলেজ। একইসঙ্গে কলেজটির মাঠের সম্মুখেই গো-প্রজনন কেন্দ্রে গবাদিপশুর প্রজনন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন শিক্ষকরা। অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরাও।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির বেশ সুনাম রয়েছে। তবে কলেজ চত্বরে গরু প্রজনন উপ-কেন্দ্র গড়ে ওঠায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। কলেজ চলাকালে উন্মুক্ত পরিবেশে গরুর প্রজনন কার্যক্রম চালানোর কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তা ছাড়া কলেজে যাতায়াতের রাস্তার পাশেই প্রজনন কেন্দ্রটি থাকায় দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে যাতায়াত করতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
রুপালি খাতুন ও নয়ন ইসলাম নামে দুই শিক্ষার্থী বলেন, কলেজ মাঠেই গরুর প্রজননকাজ করা হয়। এতে প্রতিদিন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। মেয়ে শিক্ষার্থীরা লজ্জায় মুখে রুমাল দিয়ে ক্লাসে উপস্থিত হন।
গো-প্রজনন উপ-কেন্দ্রের ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (ভিএফএ) ইকবাল হোসেন বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠারও ২০ বছর আগে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে গো-প্রজনন কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়। জনকল্যাণেই এর কার্যক্রম চলছে। আর এখানকার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। তবে কোনও একসময় এই এলাকার এমপি কলেজ মাঠ থেকে এটি সরানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে শুনেছি। আর বর্তমান শিক্ষক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজ প্রতিষ্ঠার পরপরই এই গো-প্রজনন কেন্দ্রটি স্থানান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু সুদীর্ঘ ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে উদাসীন রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এতে ২৭ বছর ধরে কলেজে পাঠদান ও দৈনন্দিন কার্যাবলিতে পোহাতে হচ্ছে বিড়ম্বনা।
কলেজের অধ্যক্ষ আব্বাস আলী বলেন, কলেজ চত্বরে উন্মুক্তভাবে গরুর প্রজনন কাজ করায় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি লেখাপড়ার সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকছে না। তাই প্রজনন কেন্দ্রটি দ্রুত স্থানান্তর করা উচিত। যেহেতু কলেজ প্রতিষ্ঠার আগেই কেন্দ্রটি সরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রয়োজনে কলেজ কর্তৃপক্ষ অন্যত্র জায়গার ব্যবস্থা করে দেবে। আরও সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা করবেন বলে জানান তিনি।
দুর্গাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল কাদির বলেন, বিষয়টি নিয়ে এর আগেও আমরা অনেক কথা শুনেছি। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাবো।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল রানা বলেন, সবেমাত্র যোগদান করেছি। বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুলফিকার মো. আক্তার হোসেন বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই সরকারিভাবে জনস্বার্থ বিবেচনায় গো-প্রজনন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই কেন্দ্রে প্রাকৃতিকভাবে কোনও প্রজনন করা হয় না। ইনজেকশনের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রজনন করা হচ্ছে। কাজেই কেন্দ্র অপরিষ্কার-দুর্গন্ধ এসবের প্রশ্নই ওঠে না। তবে সত্যি বলতে কলেজ কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে জায়গাটি দখলে নিতে। এ কারণেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তাদের যদি মনে হয়ে থাকে এটা এখান থেকে সরানো প্রয়োজন। তবে সেটা তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারে। তারা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানালে হয়তো তদন্ত করে একটা ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। এটা মন্ত্রণালয়ের বিষয়।









