বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করিনি, বড় হুজুর বলেছেন ম্যুরাল বানালে পাপ হবে: মেয়র আব্বাস

দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী
২৬ নভেম্বর ২০২১, ২০:৫৫আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২১, ২০:৫৫

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী বলেছেন, ‌‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করিনি, কাটাখালী মাদ্রাসার বড় হুজুর বলেছেন ম্যুরাল নির্মাণ করলে পাপ হবে। এখন সবাই বলতেছে, আমি বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করেছি, কোথায় কীভাবে আমি বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করলাম?।’ 

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিকালে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন মেয়র আব্বাস আলী।

তিনি বলেন, ‘১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ওই অডিওতে আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনও কথা বলিনি। একটা রেফারেন্স দিয়েছিলাম চায়ের আড্ডায়। আমিও তো একজন মানুষ। আমারও তো একটা সার্কেল আছে। চায়ের আড্ডায় অডিও রেকর্ড করা হয়েছে। তারপরও আমি একটা ব্যাখ্যা দিলাম ম্যুরাল নিয়ে। ওখানকার মাদ্রাসার বড় হুজুর বলেছেন ম্যুরাল তৈরি করো না। ম্যুরাল জায়েজ না। ম্যুরাল করলে পাপ হবে। তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি কিছু কথা রেফারেন্স হিসেবে বলেছি। ওটাকে এডিট করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। প্রত্যেক মানুষেরই তো একটা ব্যক্তিগত মতামত আছে। পুরো  অডিও শুনে দেখেন, আমি কোথায় বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করেছি। আমি তাকে নিয়ে মন্তব্য করতে যাবো কেন?।’

একই দিন বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটে ফেসবুক লাইভে এসে মেয়র আব্বাস আলী বলেন, ‘কাটাখালী মাদ্রাসার বড় হুজুরের আপত্তির কারণে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের কাটাখালী পৌরসভা গেট নির্মাণস্থলে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ থেকে সরে এসেছি। তবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল সেখানে নির্মাণ করা কথা ছিল। আমি আগে থেকে ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়েছিলাম।’

মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি একজন মুসলমান। একজন আল্লাহওয়ালা লোকের কথা শুনে আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি। এটা আমার যদি ভুল হয়ে থাকে, আর সে জন্য আমাকে নানা ধরনের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। যে শাস্তি আমি সহ্য করতে পারছি না।’

মেয়র আব্বাস আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় আমার পরিবারকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ছোট একটি ভুলের কারণে আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র কেন করা হচ্ছে? আগামীতে এর পেছনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরবো।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে মেয়র আব্বাস আলীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। 

একই অভিযোগে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ থেকে তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুক্রবার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুুদ দারা। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণকে কেন্দ্র করে কটূক্তির ঘটনায় মেয়র আব্বাস আলীর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। 

‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় রাজশাহী’ লেখা ব্যানারে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেব বাজার জিরো পয়েটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মেয়র আব্বাসের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এ সময় মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষ, বর্তমান সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক ডা. সিরাজুল মবিন সবুজ, যুগ্ম সম্পাদক হাসান রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসিক দত্ত ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  

মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে মেয়র আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের যে অংশটা হাইওয়েতে, সিটি গেট আমার অংশে। ফার্মকে দিয়েছি তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দেবে, ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে, যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর। এটা ইসলামি শরিয়ত অনুপাতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না। সব করবো, যা কিছু আছে। খালি শেষ মাথাতে যেটা ওটা।’

আব্বাস আলীকে অডিওতে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, আমাকে যেভাবে বুঝাইল, ম্যুরালটা দিলে ঠিক হবে না। আমার পাপ হবে। এটা কেন দেবো, দেবো না। আমি তো কানা না, আমাকে যেভাবে বোঝাইছে, তাতে আমার মনে হয়েছে যে ম্যুরালটা হলে আমার ভুল হবে। এ জন্য চেঞ্জ করছি। এই খবরটাও যদি আবার যায়, তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে, আরে যে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল দিতে চাচ্ছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করবো নাকি। এটা নিয়ে রাজনীতি করবে শিউর। রাজনীতি করলে কিছু করার নাই। তাই বলে মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না তো।’ অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়।

ইতোমধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আর উপজেলা আওয়ামী লীগ আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

/এএম/
সম্পর্কিত
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বশেষ খবর
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী