বগুড়ার নন্দীগ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহসহ পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, এমন সিদ্ধান্তে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা এ বিষয়ে কূটকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নন্দীগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান জিন্নাহ জানান, তাকে আওয়ামী লীগের কোনও কমিটিতে রাখা হয়নি। তাহলে তাকে কীভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। তিনি অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রানা সংগঠনকে ধ্বংস করতে এসব করছেন। এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র; ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এসব করা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম দাবি, জিন্নাহর সদস্য পদ আছে; সেখান থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর তারা সঠিক পথে আছেন। কোনও ষড়যন্ত্র বা সংগঠনের ক্ষতি করছেন না।
বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল জানান, নন্দীগ্রামের কোনও নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতির কোনও চিঠি তারা পাননি।
উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ ছাড়াও অব্যাহতিপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি একরাম হোসেন, ভাটরা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মজনুর রহমান মজনু, আবদুল্লাহেল বাকী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজাউদদৌলা ববি।
এর আগে, শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) বিকালে নন্দীগ্রাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে যৌথ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের সঞ্চালনায় সভায় আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এসব নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাদের দাবি, এ সংক্রান্ত চিঠি জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, উপজেলার চারটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সংবাদ
সম্মেলন করে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াসহ প্রকাশ্য সভায় ঘোষণা দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহর বহিষ্কারের দাবি জানান।
রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ জানান, তার বাবা ডা. শফিউল আলম বুলু ও চাচা শহিদুল আলম দুদু ১৯৫৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। তারা দীর্ঘদিন নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি গত ৪০ বছর ছাত্রলীগ, যুবলীগের সঙ্গে ছিলেন। তার পরিবার সংগঠনের জন্য অনেক শ্রম ও রক্ত দিয়েছেন। রফিকুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন রানা সংগঠনকে ধ্বংস করতে নানা ষড়যন্ত্র করছেন। ২০১২ সালে এখানে আওয়ামী লীগের ‘পকেট কমিটি’ গঠনের পর থেকে তাকে সংগঠনের কোথাও রাখা হয়নি। তাই তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া ‘হাস্যকর’। তিনি এ কুচক্রিদের হাত থেকে সংগঠনকে বাঁচাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চতুর্থ ধাপে আগামী ২৬ ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম উপজেলায় চার ইউনিয়নে ভোট হবে।









