সদ্য বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা তার মেয়াদ শেষ করলেও ‘পার পেয়ে গেছেন’ বলে মনে করছেন না সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। শনিবার (১২ মার্চ) রাজশাহীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘জাতীয় উন্নয়নে অঙ্গীকার, শিক্ষা, শোভন কর্মসংস্থান, জেন্ডার সমতা’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাবেক সিইসি কেএম নূরুল হুদার মেয়াদ শেষের কয়েকদিন আগে সুজন সম্পাদক সম্পর্কে নানা আপত্তিকর কথা বলেন। প্রতিক্রিয়ায় সুজন সম্পাদকও নূরুল হুদাকে ‘খলনায়ক’ আখ্যা দিয়ে জবাদ দেন। এ প্রসঙ্গটিই সিপিডির মুক্ত আলোচনায় তুলেছিলেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান। তিনি বলেন, ‘সাবেক সিইসি কেএম নূরুল হুদা সুজন সম্পাদক সম্পর্কে যা বলেছেন এবং দায়িত্বে থেকে যা করেছেন, তার জন্য আগে তাকে কারাগারে রেখে তারপর এই সভাটি করা দরকার ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম নূরুল হুদা পার পেয়ে গেলেন। তার কিছুই হলো না।’
এ প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্যের সময় সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘একজন বক্তা বললেন, সাবেক সিইসি মহোদয় পার পেয়ে গেছেন। কিন্তু আমার মনে হয় না তিনি পার পেয়ে গেছেন। কবি কাজী নজরুলের ভাষায় বলতে গেলে, “দিনে দিনে বাড়িতেছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ।” একদিন ঋণ শোধ করতেই হবে। আমার মনে হয় না কেউ পার পেয়ে যাচ্ছে।’
এ সংলাপের মুক্ত আলোচনায় সুষ্ঠু নির্বাচন, নির্বাচনি ইশতেহারের বাস্তবায়ন না হওয়া, চিকিৎসা ও শিক্ষায় দুর্নীতিসহ নানা অসঙ্গতির কথা উঠে আসে। এ বিষয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘আপনারা যদি নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তন চান। তাহলে ভয়কে জয় করতে হবে। আপনারা যদি আপনাদের কথাগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে বলেন, তাহলে কিন্তু পরিবর্তন আসবে। না হলে পরিবর্তন আসবে না। তাই আপনাদের সক্রিয় হতে হবে, সোচ্চার হতে হবে। নাগরিকরাই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। একটা রাষ্ট্রে নাগরিকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আপনারা যদি ভয়কে জয় করতে পারেন তাহলেই পরিবর্তন আসবে।’
রাজশাহী শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সাংসদ মিজ জাহান পান্না। এছাড়াও বক্তব্য দেন সুজনের রাজশাহী নগর সভাপতি মোহাম্মদ পিয়ার বক্স, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রকীব আহমেদ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) রাজশাহী ইউনিটের সমন্বয়কারী সামিনা বেগম প্রমুখ।
সংলাপে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, উন্নয়নকর্মী, উদ্যোক্তা, পেশাজীবীসহ নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সুজনের রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলার সভাপতি-সম্পাদকেরাও উপস্থিত ছিলেন। মুক্ত আলোচনায় তারা নিজেদের মত তুলে ধরেন।









