X
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২
২০ আষাঢ় ১৪২৯

তালাক দেওয়ায় সাবেক স্ত্রীর সন্তানকে হত্যা

আপডেট : ১৮ মে ২০২২, ২৩:১৩

বগুড়ার শাজাহানপুরে শিশু সামিউল ইসলাম সাব্বির (১০) হত্যার ঘটনায় সৎ বাবাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ মে) বিকালে তাদেরকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিনিয়া জাহানের আদালতে তুলে সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন– ফজলুল হক (৩৫) ও অনিতা রানী (৩৫)। ফজলুল উপজেলার খরনা কমলা চাপড় গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। অনিতা একই উপজেলার চেলো গ্রামের মৃত খিরদ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে।

এই ঘটনায় নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, সোমবার সকালে উপজেলার মানিকদীপা কমলা চাপড় গ্রামের একটি লাউক্ষেতের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, লাশটি উপজেলার সাজাপুর পূর্বপাড়ার তালিমুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র সামিউল ইসলামের। পরে সাজাপুর গ্রামের মৃত তালেব আলীর মেয়ে সালেহা বেগম (২৮) শিশুটিকে তার সন্তান বলে শনাক্ত করেন।

মাঝিড়া কাগজীপাড়ার মৃত মনসুর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম প্রায় ১০ বছর আগে সালেহা বেগমকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে ছেলে সামিউলের জন্ম হয়। মাদকসেবনের কারণে প্রায় দেড় মাস আগে সালেহা স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে তালাক দেন। এরপর ছেলেকে নিয়ে খরনা কমলা চাপড় গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে ফজলুল হককে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ফজলুল সৎ ছেলে সামিউলকে মেনে নিতে পারছিলেন না। তাকে বাড়ি থেকে তাড়াতে চাপ সৃষ্টি ও মারধর করতেন। ঘর থেকে বের করে দিয়ে অনাহারে রাখতেন। গত ঈদের দিনেও মারধর করে তাকে খালার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সন্তানের সুখের জন্য সালেহা গত ১১ মে ফজলুলকেও তালাক দেন।

১৪ এপ্রিল মাদ্রাসা খুললে সামিউলকে সেখানে রেখে আসেন মা সালেহা। সামিউলের জন্য তালাক দেওয়ায় ফজলুল খুব ক্ষুব্ধ হন। শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে মাদ্রাসায় গিয়ে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষক আবু মুসার কাছে আবেদন করেন। মাদ্রাসার নিয়মানুসারে মায়ের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীকে দেওয়ার বিধান না থাকায় শিক্ষক এতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ সময় ফজলুল তার সহকর্মী একই উপজেলার চেলো গ্রামের মৃত খিরদ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে অনিতা রানীকে মা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি অনিতা রানীকে ফোন দেন এবং শিক্ষক মুছাকে বলতে বলেন, সামিউল তার সন্তান। শিক্ষক ফোন দিলে অনিতা রানী নিজেকে সামিউলের মা সালেহা পরিচয় দিয়ে ছেলেকে ফজলুলের কাছে দিতে বলেন। তখন শিক্ষক ফজলুলের কাছে শিশুটিকে দিয়ে দেন। তাকে উপজেলার মানিকদীপা কমলা চাপড় গ্রামে একটি লাউক্ষেতে নিয়ে যান। গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর লাশ বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে চলে যান।

১৭ মে সকাল ৮টার দিকে গ্রামবাসীরা লাশ দেখতে পেয়ে শাজাহানপুর থানা-পুলিশে খবর দেন। সালেহা ছেলের লাশ শনাক্ত করার পর পুলিশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এদিকে, শিশু সামিউলকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন টিম মাঠে নামে। ছয় ঘণ্টার অভিযানে ফজলুল ও অনিতাকে গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে সামিউলের মা শাজাহানপুর থানায় ফজলুল ও অনিতার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

শাজাহানপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি ঘটনা স্বীকার করেছেন। স্বীকারোক্তি রেকর্ডের জন্য বুধবার বিকালে তাদের বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিনিয়া জাহানের আদালতে হাজির করা হয়েছে। স্বীকারোক্তি না দিলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

/আরকে/এফআর/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
উত্তরের পথে স্বস্তি, খুললো নলকা সেতুর আরেক লেন
উত্তরের পথে স্বস্তি, খুললো নলকা সেতুর আরেক লেন
‌মশা নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: মেয়র আতিক
‌মশা নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: মেয়র আতিক
গরু আছে ক্রেতা নেই আশিয়ান সিটির হাটে
গরু আছে ক্রেতা নেই আশিয়ান সিটির হাটে
‘লাল সোনামনি’র দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা
‘লাল সোনামনি’র দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা
এ বিভাগের সর্বশেষ
উত্তরের পথে স্বস্তি, খুললো নলকা সেতুর আরেক লেন
উত্তরের পথে স্বস্তি, খুললো নলকা সেতুর আরেক লেন
নাটোরে সড়কে ঝরলো ৩ প্রাণ
নাটোরে সড়কে ঝরলো ৩ প্রাণ
রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত
রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত
আলোকিত হলো রাজশাহীর প্রথম ফ্লাইওভার
আলোকিত হলো রাজশাহীর প্রথম ফ্লাইওভার
৩০ শতাংশ মূল্য ছাড় দিয়ে প্রতারণা
৩০ শতাংশ মূল্য ছাড় দিয়ে প্রতারণা